Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৪২
দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত বিলীন বহু ঘরবাড়ি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত বিলীন বহু ঘরবাড়ি
জোয়ারের পানিতে প্লাবিত কুতুবদিয়া। ছবিটি গতকাল উত্তর ধুরুং এলাকা থেকে তোলা

অস্বাভাবিক জোয়ারে কক্সবাজার জেলার উপকূলবর্তী দুই শতাধিক গ্রাম ফের প্লাবিত হয়েছে। শনিবার রাত থেকে জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদরের বিভিন্ন এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিধ্বস্ত হয়ে গেছে বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট। ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, পথঘাট। নষ্ট হয়ে গেছে ক্ষেত খামার ও ফসলি জমি। মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা, কালারমারছড়া ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের ৮০ গ্রাম, টেকনাফের ৪০ গ্রাম, পেকুয়ায় ৩০ গ্রাম এবং কক্সবাজার সদরের ২০ গ্রামে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে। কুতুবদিয়ার আকবর আলী সিকদারপাড়া, জইজ্জারপাড়া, মনু সিকদারপাড়া, ফয়জানির বাপের পাড়াসহ উত্তর ধুরুং এর প্রায় এলাকা তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে অন্তত ৫০০ বসতঘর।  কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম শহরিয়ার চৌধুরী জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’র আঘাতের শোক ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই কুতুবদিয়াবাসী আবার পড়েছে প্রবল জোয়ারের পানির কবলে। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকছে। এই মুহূর্তে কুতুবদিয়ার মানুষের পাশে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও চারপাশে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি তুলেন তিনি। মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়িতে দিনের বেলায় জোয়ারের পানিতে মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও কুতুবজুম ইউনিয়নে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে মানুষগুলো। কুতুবজুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  মোশারফ হোসেন খোকন জানিয়েছেন, সোনাদিয়া দ্বীপের ঘটিভাঙ্গা পশ্চিমপাড়া এলাকার অন্তত ২০টি বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। শনিবার থেকে পানিবন্দি মানুষগুলোর জন্য পৌঁছেনি কোনো ধরনের সাহায্য। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণ পাড়া গ্রামে গত দুদিনে শতাধিক ঘরবাড়ি সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান নুর হোছেন জানান, ২০১২ সালের ২২ জুন শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণ পাড়া গ্রাম এলাকার ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এরপর থেকে জোয়ার-ভাটা চলছে অবিরত। দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। শাহপরীর দ্বীপ আওয়ামী লীগের সভাপতি সোনা আলী বলেন, দ্বীপের প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় হুমকিতে আছে দ্বীপের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন  বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো দিয়ে জোয়ারের পানি যাওয়া-আসা করছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়েছে।




up-arrow