Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:০০
কৃষক কার্ডে ধান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ খাদ্য গুদামে হাট-বাজার থেকে ধান কিনে কৃষকদের সামান্য টাকা ধরিয়ে দিয়ে তাদের কার্ডের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করছেন আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা। অভিযোগ আছে, এ জন্য গুদাম কর্মকর্তাদের টনপ্রতি ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে।

জানা যায়, চলনবিলঅধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলায় তিন হাজার ১৬৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৩০ মে থেকে শুরু হয়েছে সংগ্রহ অভিযান। এর আগেই উপজেলা পরিষদে রেজুলেশন করে স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষক বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এমপি প্রতি ইউনিয়নের পুরাতন ও নতুন চেয়ারম্যানের অনুকূলে ৫০-১০০ টন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ১০ টন করে সরবরাহ বরাদ্দ দেন। উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের সর্বোচ্চ ৫০ টন সরবরাহ করতে বলেন। তবে ধান তাড়াশের কৃষকের কার্ডের মাধ্যমে সরবরাহ করার শর্ত দেন। ওই সব নেতা অন্য উপজেলা থেকে কমমূল্যে ধান কিনে ট্রাকে গুদামে নিয়ে আসছেন। আর নিকটাত্মীয় বা গরিব কৃষককে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে কৃষি কার্ড নিয়ে গুদামে ওই ধান সরবরাহ করছেন। তাড়াশ খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ছানোয়ার জানান, গত সাত দিনে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। কে, কোথা থেকে ধান নিয়ে এলো আমাদের দেখার বিষয় নয়। কৃষি কার্ডে ধান নেওয়া হচ্ছে এটাই বড় কথা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, তাড়াশে ৩৫ হাজার কৃষক রয়েছেন। প্রত্যেকের নামের তালিকা খাদ্য গুদামে দেওয়া হয়েছে। কোন কৃষকের ধান নিবে কি নিবে না তাদের বিষয়। ধান ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ৩৫ হাজার কৃষক একবারে ধান দিতে এলে হুলুস্থুল কারবার হবে। এ জন্য এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। তারা যাদের বাছাই করছেন তারাই ধান সরবরাহ করছেন। স্থানীয় এমপি গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন বলেন, ‘কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ধান সরবরাহ করা হচ্ছে কিনা আপনারা সেটিই দেখেন। ধানের গায়ে লেখা নেই- এটি ঢাকার নাকি তাড়াশের। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow