Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ২৩:০০
টেকনাফে টানা বর্ষণে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পাহাড় ধসের আশঙ্কা
টেকনাফ প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপকূলীয় সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন এলাকার অন্তত ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে শত শত পরিবার। ভেসে গেছে গ্রামীণ সড়ক, মাছের ঘের। প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজারো পরিবার। এসব পরিবার পাহাড়ের ঢালু কিংবা খাড়া অংশের নিচে বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস করছে। পাহাড় ধসের ঘটনায় গত কয়েক বছরে টেকনাফে শতাধিক প্রাণহানি ঘটলেও এ বর্ষায় এখনো কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। টানা বর্ষণের ফলে ইতিমধ্যে পাহাড়ে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যেতে বন সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বুধবার নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে করা হয়েছে মাইকিং। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেকনাফ রেঞ্জের আওতায় টেকনাফ, মোচনী, হ্নীলা ও মধ্যম হ্নীলা চারটি বিটে ছয় হাজার ৬২৪ হেক্টর পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরত ৭৫১ পরিবারের একটি তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে থাকলেও সঠিক হিসাব নেই বন বিভাগের কাছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে— পুরাতন পলানপাড়া, ফকিরামুরা, কাদিরঘোনা, নাইট্যাংপাড়া, শিয়াঘোনা, শাইলাতালী, বরইতলী উঠনি, সদরের বরইতলী, কেরুনতলী, নতুন পলানপাড়া, মাঠপাড়া, জাহালিয়াপাড়া ও সন্দরকিলা, হ্নীলার দমদমিয়া, জাদিমুরা, রঙ্গিখালী, মুরাপাড়া, পশ্চিম সিকদারপাড়া, নইন্যার জোম, ঘোনাপাড়া, পশ্চিম পানখালী, হোয়াইক্যং নয়াপাড়া, কম্বনিয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া ও পশ্চিম কুতুবদিয়া পাড়া। টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদেকুর রহমান জানান, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ে বাসকারীদের নিজ দায়িত্বে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। শিগগিরই ইউএনওর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি ও পুলিশ নিয়ে পাহাড়ে বসবাসকারী ও ঝুঁকিপূর্ণদের উচ্ছেদ করা হবে। অন্যদিকে, শীলখালী রেঞ্জের রাজারছড়া, মাথাভাঙ্গা, শীলখালী বনবিটের পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে শতাধিক বাড়িঘর। এসব পাহাড়ে অবৈধ বাড়িঘর উচ্ছেদের জন্য আগে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শীলখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন। এ ছাড়া হোয়াইক্যং রেঞ্জের আওতায় রইক্ষং, শামলাপুর, হোয়াইক্যং ও উখিয়ার মনখালীসহ চারটি বিটেও প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বাস। যার অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের তালিকা করে তাদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

up-arrow