Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৪ জুন, ২০১৬ ২৩:৩১
টার্গেট কিলিং ঠেকাতে রাত জেগে গ্রাম পাহারা
মাগুরা প্রতিনিধি
টার্গেট কিলিং ঠেকাতে রাত জেগে গ্রাম পাহারা
মাগুরা সদরের কৃষবিলা গ্রামে লাঠি-বাশি পার্টির মহিলা সদস্যরা

গুপ্ত হত্যা, জঙ্গী ও সন্ত্রাসী তত্পরতা রুখতে মাগুরায় পুলিশের উদ্যোগে গ্রামে গ্রামে চলছে প্রতিরক্ষা দল গঠন কর্মসূচি। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গ্রামবাসীর হাতে জনপ্রতি একটি করে বাঁঁশের লাঠি ও বাঁশি দিয়ে গঠন করা হচ্ছে এই দল। গতকাল সদর উপজেলার হাজরাপুর ও শ্রীপুরের বরিষাট গ্রামে এ ধরনের দুটি প্রতিরক্ষা দল গঠন করে গ্রামবাসীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাঁশের লাঠি ও বাঁশি। এছাড়া রবিবার ও সোমবার  মাগুরা সদর উপজেলার  গোপীনাথপুর, টেঙ্গাখালী বাজার, শালিখা উপজেলার তালখড়ি  লোকনাথ আশ্রম, গঙ্গারামপুর বালিকা বিদ্যালয় এলাকা, সদরের রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা, সাতদোহা ন্যাংটা বাবার আশ্রম, মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সদর ও মহম্মদপুর উপজেলা সদরের বাজার এলাকায় ৮টি প্রতিরক্ষা দল  গঠন করা হয়।

পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামবাসীর হাতে বাঁশের লাঠি ও বাঁশি তুলে দেন। এ সময় অতিরিক্তি পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, শিক্ষক, সামাজিক নেতা, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েতসহ সাধারণ গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।   সারা দেশে গুপ্ত হামলায় পুরোহিত খুনের ঘটনায় গত ৯ জুন মাগুরার জেলার বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিতদের নিরাপত্তা  নিয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার মতবিনিময় সভার আয়োজন করলে সেখানে গ্রামে গ্রামে নিরাপত্তা বলয় গড়তে এ ধরনের সুপারিশ উঠে আসে। এই সুপারিশের আলোকে পুলিশ সুপার নিজে উদ্যোগী হয়ে গ্রামে গ্রামে এই ডিফেন্স পার্টি তথা প্রতিরক্ষা দল গঠনের উদ্যোগ নেন।

এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার এ কে এম এহসান উল্লাহ বলেন, ‘টার্গেট কিলিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে এটি অত্যন্ত কার্যকরি হয়েছে। এখন প্রতিটি গ্রামে মানুষ এক ধরনের নিরাপত্তা অনুভব করছেন। আমাদের পুলিশে জনবল সংকট রয়েছে। সে কারণে সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশ্যই জনগণের সহযোগিতা দরকার। সে প্রয়োজনেই আমরা সবার কাছে এ বিষয়ে আহ্বান রেখেছিলাম। সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের ইচ্ছে অধিকাংশ এলাকায় পর্যায়ক্রমে গ্রামে  গ্রামে এই দল গঠন করা’।

এ বিষয়ে মাগুরা সদরের টেঙ্গাখালী মন্দিরের পুরোহিত নৃপেন চক্রবর্তী বলেন, ‘এলাকায় রাতে প্রতিরক্ষা দলের পাহারা চালু হবার পর বেশ নিরাপদ অনুভব করছি। এটি চলমান থাকা উচিত’।

সদরের টেঙ্গাখালীর কলেজ শিক্ষক ভুপতি বিশ্বাস বলেন ‘অতীতে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ডিফেন্স পার্টি গঠিত হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটি আছে। কিন্তু কোনটিই দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকে না। আমাদের দাবি এই কর্মসূচিটি যেন টিকে থাকে। পাশাপাশি প্রত্যেক ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যেসব গ্রাম পুলিশ আছে তাদেরকে সজাগ রাখা দরকার’।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow