Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৫৮
বাড়িতে মাতম, মেরে ফলা হয়েছে অভিযোগ স্বজনের
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রান্ত চন্দ্র দের (২০) মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না পরিবার। বাড়িতে চলছে মাতম। গতকাল এই প্রতিবেদক নগরীর গোলপুকুরপাড় বাসায় গেলে প্রান্তর মা বিলাপ করতে করতে বলেন ‘আমার ছেলেরে আফনেরা খুইজ্জা বাইর কইরা দিবাইন। থানাত যাইন পুলিশরে জিজ্ঞাস করুইন, আমার সন্তানরে মারছে কেডা। সন্তানরে আমি ফিরত চাই নইলে বিচার চাই। ’পাশে থাকা নিহতের বাবা রবি দে বলেন, ‘আমার ছেলেরে পুলিশ ধরছে শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে। পরে এসআই উজ্জ্বল ফোন দিয়া কইছে ৮টার পর থানাত যাইতে। আমার ছেলেডারে ওই সমডার মধ্যেই মারছে। রাইত সাড়ে ৮টার সময় ফোন দিয়া কইছে প্রান্ত মইরা গেছে। ’ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, প্রান্তকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। এর এক ঘণ্টা পর সে বুকে ব্যথা অনুভব করে। পুলিশ হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ওসি জানান, এর আগেও প্রান্ত মাদকসহ দুই বার আটক হয়েছিল। তার মায়ের ক্যান্সারের বিষয়টি বিবেচনা করে ছেঁড়ে দেওয়া হয়। প্রান্তকে আটক করা কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই উজ্জল কান্তি বলেন, ‘মাদকসহ তাকে আটকের পর থানায় পৌঁছে দেই। ইফতারির আগে সে অসুস্থ হয়। আমরা মাদকসেবী বা মাদক বিক্রেতাকে আটক করলে কোনো টর্চার করি না। এরা এমনিতেই দুর্বল চিত্তের হয়ে থাকে। ’ নিহতের বোন মিতুর ভাষ্য, এমন ছেলে কী স্ট্রোক করতে পারে? আমাদের তার লাশটি পর্যন্ত দেখতে দেয়নি। দেখতে চাইলে এক পুলিশ সদস্য বলে, ঢুকতে পারবেন না, লাশ ধরলে আপনার শরীরেও দাগ পইরা যাইবো। তিনি বলেন, আমার ভাই ধূমপান করত ঠিক। কিন্তু ইয়াবা বা অন্য কোনো নেশায় আসক্ত ছিল না। জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি। আমাদের পর্যাপ্ত সাক্ষী-প্রমাণ আছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow