Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৪
খাদ্য গুদামে ঢুকছে নেতাদের ধান!
লালমনিরহাটে ধান সংগ্রহ অভিযান
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট জেলার ৭টি সরকারি খাদ্য গুদামে কৃষকদের ধান না নিয়ে রাতের আঁধারে ঢুকানো হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও দালালদের ধান। অভিযোগ রয়েছে— ধান নিয়ে আসলেও কৃষকদের নানা অজুহাতে ফেরত পাঠাচ্ছেন গুদামের কর্মকর্তারা।   জেলার খাদ্য গুদামের একাধিক কর্মচারি ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, কৃষকের কাছ থেকে ধান না নিয়ে গভীর রাতে টাকা নিয়ে ট্রাকভর্তি ধান এনে গুদামজাত করা হচ্ছে। আদিতমারি খাদ্য গুদামের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, ৩ জুলাই রাতে দুটি ট্রাকভর্তি ধান ঢুকানো হয়, বিষয়টি কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে জানালে তিনি তার উপর চটে যান। টনপ্রতি ধানের বিপরীতে খাদ্য কর্মকর্তাকে চার হাজার টাকা দিলেই সব চিটা, আর্দ্রতাবিহীন খারাপ ধানও তখন ভাল হয়ে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। কৃষকের কার্ডেই এ ধান সরবরাহ হচ্ছে— এমন দাবি পাটগ্রাম উপজেলার খাদ্য গুদাম ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, নিয়ম রয়েছে চাতালে শুকানো ও ফ্যান দিয়ে ঝারা ধান কিনতে হবে। কৃষকের তো চাতাল নেই। তাই দলীয় নেতারা তাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন।   ৪ জুলাই হাতিবান্ধার কয়েক কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে আর্দ্রতা কম, চিটাযুক্ত বলে নানা ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করেন খাদ্য কর্মকর্তা। দাবি অনুযায়ী প্রতিটনে চার হাজার টাকা উেকাচ দিলে পরক্ষণেই ধানগুলো ভাল হয়ে যায়। জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমান কৃষককে বিশেষ সুবিধা দিতেই বেশি দরে ধান ক্রয় করে সরকার। তবে কৃষক এ সুবিধা পায় না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে বেশি দামে গুদামে বিক্রি করেন। জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণেই সাধারণ কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম মওলা বলেন, রাতে ট্রাকে ধান ঢুকলে দোষের কি? ধান-ক্রয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জিম্মি। তাদের মর্জি অনুযায়ী ধান কিনতে হয়। এর প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। উল্টো জীবন ঝুঁকিতে পড়তে হয়।   সরকারি সিদ্ধান্তে পহেলা জুন থেকে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করে খাদ্য গুদামগুলো। চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ধান কেনার টার্গেট ৭ হাজার ৯০০ মে.টন। ৪ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ হাজার ৯৮০ মে. টন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow