Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৬ ২৩:৩৮
কারখানার ভূত তাড়াতে সরিষা তাবিজ, তবুও স্বস্তি নেই!
সাভার প্রতিনিধি

আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার ডেকো ডিজাইন লিমিটেড পোশাক কারখানায় ভূত তাড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হলেও স্বস্তিতে নেই শ্রমিকরা। গত দুদিনে কর্তৃপক্ষ ভূত তাড়াতে কারখানার ভেতরে ঘটিয়েছে নানা কাণ্ড। স্থানীয় ২৭টি মসজিদের ইমামরা ভূত তাড়ানোর কাজে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ফকির দিয়ে কারখানার সীমানা প্রাচিরের চারপাশে সরিষা ও সোনা রুপার পানি ছেটানো হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ কারখানায় প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত শনিবার দুপুরে পানি পান করে ও টয়লেট থেকে বেরিয়ে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকেই ওই কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ভূত আতঙ্ক শুরু হয়। গতকাল বিকালে সরেজমিন কারখানার ভিতরে গিয়ে দেখা যায়, ভূত তাড়ানোর জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার  কবিরাজ ও ফকিররা ধূপ জ্বালিয়ে কারখানার সীমানা প্রাচীরের চারপাশে সরিষা ও রুপা সোনার পানি ছিটায়। মূল ফটকসহ প্রতিটি গেটের সামনে ঝুলানো হয় প্রায় ২০টি তাবিজ। এর পর কারখানার ভিতরে আয়োজন করা হয় এক বিশাল দোয়া মাহফিলের। এতে ওই এলাকার বিভিন্ন মসজিদের প্রায় ২৭ জন ইমাম অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় মসজিদের হাফেজ নুরুল আমিন বলেন, ফজরের নামাজের পর থেকে এশার নামাজের পর পর্যন্ত দোয়া করা হয়।  জিন, ভূত-পেত্নীর কারণে এ কারখানার শ্রমিকরা গত তিন দিন যাবৎ কাজ করতে পারছে না। তাই দুদিন ধরে ভূত তাড়ানোর জন্য আমরা সবাই মিলে কাজ করছি। মিরপুর থেকে আসা নুরুল আহসান ভুইয়া নামের এক ফকির বলেন, ডেকো ডিজাইন গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানায় একাধিক জিন ও ভূত রয়েছে। ভূত তাড়াতে সরিষা, সোনা-রুপার পানি ছিটানো হয় সকাল ও সন্ধ্যা।  যাতে ভূত ও জিন দ্রুত পালিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তিনি বলেন, আগামী ৫ কার্যদিবসের  মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow