Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৭
‘রাক্ষুসে নদী ব্যাবাক খায়া ফেলছে’
পদ্মাপারে মানবেতর জীবন
প্রতিদিন ডেস্ক
‘রাক্ষুসে নদী ব্যাবাক খায়া ফেলছে’
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুণ্ডেরচর ইউনিয়নে কলমিরচর গ্রামে নদীভাঙনে বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে একটি পরিবারের বসবাস —বাংলাদেশ প্রতিদিন

কুষ্টিয়া ও শরীয়তপুরে পদ্মার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, নদীতে ভিটেবাড়ি হারানোর পর ঘরের টিনের চালা আর সামান্য আসবাবপত্র নিয়ে জুলেখা খাতুন আশ্রয় নিয়েছেন জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের আতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে।

তিনি বলেন, ‘রাক্ষুসে নদী ব্যাবাকটি খাইয়া ফেলছে বাবা। বন্যায় সব ডুইব্বা যাওয়ায় কাম-কাজ পাইতাছি না, ঘরে অসুস্থ সোয়ামি, দুইডা পোলা, এক বেলা খাইতাছি তো আরেক বেলা জুটতাছে না। কেউ আমাগো খোঁজ রাখে না’।

শুক্রবার সরজমিনে ওই আশ্রয় কেন্দ্রে গেলে এমন হাহাকার শোনা যায় পদ্মা নদীর ভাঙন ও বন্যাকবলিত মানুষের কণ্ঠে। দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র ভবনন্দদিয়াড় বাজার ও ৩ শতাধিক বসতবাড়ি এরই মধ্যে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। এখানকার মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। প্রশাসন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করলেও তা সবার ভাগ্যে জুটছে না। জানা যায়, ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে কয়েকদিন আগে বন্যাকবলিত হয় চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম। এতে তলিয়ে যায় খেতের ফসল, পানিবন্দী হয়ে পড়ে ৩০ হাজার মানুষ। এখন বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও পদ্মা নদীর প্রবল ভাঙনের মুখে পড়েছে ইউনিয়নবাসী। এ ছাড়া ভাঙনের মুখে পড়েছে আতারপাড়া ও উদয়নগরসহ ইউনিয়নের আরও কয়েকটি গ্রাম। ভাঙন এতই তীব্র যে, অনেকে ঘরের আসবাবপত্র পর্যন্ত সরিয়ে নিতে পারছে না। নদীর প্রবল স্রোত সব ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভবনন্দদিয়াড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী জাফর আলী জানান, পদ্মার ভাঙনে পথের ফকির হইয়া গ্যালাম। শরীয়তপুর : জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের কলমিরচর গ্রামের পদ্মানদীর ভাঙনকবলিত মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। কয়েক দিনের ভাঙনে গ্রামটির ১ হাজার ৩০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow