Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০০
হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে পাঁচ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে পাঁচ হাজার পরিবারের দুর্ভোগ
লালমনিরহাটের চরে পানিবন্দী একটি পরিবার

ভারি বর্ষণ ও ভারতের গজলডোবার সব গেট খুলে দেওয়ায় হঠাৎ করেই বেড়েছে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি। চর এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যা।

পানি প্রবেশ করে নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। গতকাল ভোররাত থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি ব্যারাজ এলাকায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, চর নিজ শেখ সুন্দর, পার শেখ সুন্দর, বাঘের চর, চর ঠাংঝাড়া, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সিংঙ্গীমারী, চর ধুবনী, সিন্দুর্ণা, হলদীবাড়া, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যা। রাস্তা ও সেতু ডুবে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ। বিশেষ করে সানিয়াজান ইউনিয়নের চর এলাকায় পানিবন্দী কয়েকটি গ্রামের মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে। গড্ডিমারী ইউনিয়নে ছয়আনী গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি হঠাৎ বৃদ্ধির ফলে দুই দিন ধরে পরিবারগুলো পানিবন্দী। এখনো কোনো সরকারি সাহায্য পাওয়া যায়নি। ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, গড্ডিমারী ইউনিয়নে দুই দিন ধরে নতুন করে তিস্তার পানি প্রবেশ করে প্রায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। সানিয়াজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল গফুর জানান, এই ইউনিয়নে কয়েকটি গ্রামে নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যা। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি আবার তলিয়ে গেছে। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, ত্রাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করছি। চাঁপাইয়ে কমছে পানি : চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে সৃষ্ট বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরে এসছে উপদ্রুত এলাকার মানুষের মধ্যে। তিন দিন ধরে নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৭-৯ সেন্টিমিটার পানি কমছে। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল ইসলাম জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার আলাতুলি ও শিবগঞ্জের পাকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ইউনিয়নে ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সদরের আলাতুলি এবং শিবগঞ্জের ধাইনগর ও রানিনগরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। শুরু হয়েছে ত্রাণ বিতরণ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow