Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৭
স্কুলের জমি ১৩ বছর বেদখল
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী উপজেলায় ভেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ জমি ১৩ বছর ধরে জবরদখলে রেখেছেন এক সাবেক চেয়ারম্যান। ওই স্কুলের শিক্ষকরা জানান, ১৯৬৪ সালে ভেলুয়া বাজারে বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতাংশ জমি দান করেন সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।

কিন্তু তার ছেলে ভেলুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যন এবং ভেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি জহুরুল হক তালুকদার মজনু দান করা জমির ১০ শতাংশ জবরদখল করেন। তবে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান মজনু জানান— ১৯৬৪ সাল থেকেই ওই জায়গা তার দখলে। তার বক্তব্য— ‘আমার বাবা আমার ভোগকরা অংশ দান না করে অন্য অংশ বিদ্যালয়কে দান করেছেন যা বিদ্যালয়ের দখলে আছে। প্রতিষ্ঠানে জায়গা দিয়েছেন আমার বাবা; এর ক্ষতি হবে এমন অন্যায় কাজ আমি করতে পারি না। স্কুলের নয় আমি আমার জায়গায় আছি। ’ স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০২ সালে মজনু ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। সে সময় তিনি বিদ্যালয়ের আয় বৃদ্ধির কথা বলে ১০ শতাংশ জমিতে ১৩টি দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসায়ীর কাছে জামানত নিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে ভাড়া দেন। কিন্তু জামানত ও ভাড়ার অর্থ স্কুলের তহবিলে জমা দেন নাই। এরপর ৪ এপ্রিল ২০০২ সালে স্কুল কর্তৃপক্ষ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করে দলিলে উল্লেখিত জমি স্কুলকে বুঝিয়ে দিতে বলেন। আবেদন দেওয়ার পর পরই মজনু আদালতে মামলা করেন। কোর্টে কাগজপত্র না দেওয়ায় আদালত মামলা খারিজ করে দিয়ে স্কুলের পক্ষে রায় দেন। কিন্তু চেয়ারম্যান জায়গার দখল ছাড়েননি। এভাবে আরও দুবার স্কুল কর্তৃপক্ষ জমি বুঝে নিতে আবেদন করলে ২০১২ ও ২০১৪ সালে চেয়ারম্যান পুনঃপুনঃ আদালতের দ্বারাস্থ হলে প্রতিবার একই কারণে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষে রায় দেন। তারপরও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই জমি নিজ দখলেই রেখেছেন।   চেয়ারম্যান মজনুর আরেক ভাই মহিউদ্দিন মশগুল বলেন, এসব জায়গা জনস্বার্থে আমার পূর্বপুরুষরা দিয়েছেন। এই জায়গার ব্যাপারে আমাদের কোনো দাবি নাই।   বিষয়টি শুনানির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরীন দুই পক্ষকে ডেকেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow