Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০০
পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু
চাপা ক্ষোভ, উত্তেজনা
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীতে বেলাবোতে গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে নিহত মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড়। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকালে নিহতের লাশ গ্রামে পৌঁছলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। পুলিশ হেফাজতে নিহতের ঘটনায় গঠিত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। বুধবার বিকালে নরসিংদী গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ আটকের পর তাকে বেধড়ক পিটুনি দেয় পুলিশ। আস্ত ইট ও রড দিয়ে বার বার তার বুকে আঘাত করা হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায়। নিহত মোহাম্মদ আলী বেলাব মাটিয়াল পাড়া এলাকার  মৃত জহিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি এয়ারটেল টাওয়ারের নাইট গার্ড হিসেবে চাকরি করতেন। পাশাপাশি একটি পান সিগারেটের দোকানও চালাতেন। নিহত মোহম্মদ আলীর কাছ থেকে ১৩০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বলে দাবি গোয়েন্দা পুলিশের। এদিকে মোহাম্মদ আলীর লাশ দেখে অজ্ঞান হয়ে যান বৃদ্ধা মা ও স্ত্রী। বাবাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ৪ বছর বয়সী একমাত্র সন্তান তোহা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিহতের নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। জানাজায় অংশ নেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বেলাবো উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুজ্জামান ভূইয়া লিটন, বেলাবো ইউপি চেয়ারম্যান গোলাপ মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আবু লায়েস মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মিয়া প্রমুখ।

জানাজায় বক্তারা বলেন, সরকারের কাছে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। নিহতের মামা লিটন মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের উপর জুলুম হয়েছে। পারিবারিক ভাবে আলোচনা করে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করব। লিটন মিয়া আরও বলেন— মোহাম্মদ আলীকে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী বানাতে চাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বুধবার ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক খোকন চন্দ্র সরকার বেলাবো বাজার এয়ারটেল টাওয়ার এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় এয়ারটেল টাওয়ারের নাইট গার্ড ও পান-সিগারেট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ও ফারুক নামে দুজনকে  আটক করা হয়। এ সময় পুলিশ মোহাম্মদ আলীকে এলোপাতাড়ি পিটুনি দেয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow