Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০১:১৪
‘ঘুম ভাঙতেই দেহি বাড়ি ঘর নদীর মধ্যে’
ফরিদপুর প্রতিনিধি
‘ঘুম ভাঙতেই দেহি বাড়ি ঘর নদীর মধ্যে’
শুক্রবার রাতে হঠাৎ ভাঙনে কয়েকটি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়

‘স্ত্রী, সন্তান নিয়া ঘরে ঘুমাইয়া ছিলাম, হঠাৎ করেই দেহি পানির শব্দ। ঘুম থেইক্যা জাইগ্যা দেহি নদীর মধ্যে ঘরবাড়ী’—এভাবেই বলছিল ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার এমপি ডাংগী গ্রামের ওয়াছেল সিকদার। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নদীতে চলে গেছে তার বসত ঘরসহ কয়েকটি ঘর ও বেশকিছু গাছপালা। শুধু ওয়াছেল সিকদারই নয়, হঠাৎ করে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে বসত ভিটা হারিয়েছেন অন্তত সাতটি পরিবার। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই তীব্র ভাঙন শুরু হয় এমপি ডাংগী গ্রামে। প্রায় আধা ঘণ্টার এ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন দিশাহারা হয়ে পড়ে। কেউই বাড়ি-ঘরের মালপত্র সরিয়ে নিতে পারেননি। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু চলে যায় নদীগর্ভে। ভাঙনকবলে পড়ে অসহায় পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে স্বজনদের বাড়িতে, কেউবা আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তায়। মাথা গোঁজার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে একেবারেই দিশাহারা হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। হঠাৎ করে পদ্মা নদীর রুদ্রমূর্তির শিকার হওয়া এমপি ডাংগীর বাসিন্দা মো. আমির আলী (৮৭) জানান, তিনি ১৯৪৮ সালে একবার এমন ভাঙন দেখেছি। আর এবার এমন ভাঙন দেখলাম। আরেক বাসিন্দা মো. রহিম জানান, রাত ১টার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় ভাঙন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বসতবাড়িসহ সবকিছু চলে গেল নদীতে। কোনো কিছুই সরিয়ে নিতে পারিনি। স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে ভাঙনের কবলে পড়ে সাতটি পরিবারের বসতবাড়ি, গাছপালা, পাঁচ বিঘা ফসলি জমি, কয়েক মিটার নদীর তীররক্ষা বাঁধ বিলীন হয়েছে। চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান এ জি এম বাদল আমিন বলেন, হঠাৎ করে ভাঙনের কবলে পড়ে বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে চরভদ্রাসনবাসী। পাউবোর কর্মকর্তা প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, হঠাৎ করে নদীভাঙনের কবলে পড়া স্থানটি বালুর বস্তা ফেলে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow