Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১৪
হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি জিম্মি পরিবহন চালক
মাদারীপুর প্রতিনিধি
হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি জিম্মি পরিবহন চালক
মাদারীপুরে ট্রাক থামিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার পুরোদমে চেষ্টা করে গেলেও ঠিক তার উল্টো চিত্র কাওড়াকান্দি-ভাঙ্গা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে। যানজট নিরসনের নামে সুকৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই রুটের হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে।

শুধু ঢাকা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে কাওড়াকান্দি ঘাট পর্যন্ত ৫টি স্থানে চলছে নীবর চাঁদাবাজি। একদিকে ঘরেফেরা মানুষের ভিড়, অন্যদিকে পুলিশি হয়রানি, সব মিলিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় যাতায়াতকারী পরিবহন চালকরা। মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। ঈদের আগে ও পরে মোট ১০ দিন বিশেষ সেবা হিসেবে জেলা পুলিশের প্রায় ২৫০ পুলিশ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। যদি কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। ’ রবিবার সরেজমিনে গিয়ে একাধিক পরিবহন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাতায়াতের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-বরিশাল-খুলনা মহাসড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। রোজা ও কোরবানির ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন যাতায়াত করে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে অভিনব কৌশলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশসহ দালাল চক্র। রুটের ভাঙ্গা থেকে ৫টি স্থানে দফায় দফায় ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় পুলিশ ও তাদের দালালদের। ফলে সহজেই মিলে সিরিয়াল বা আগে যাওয়ার টিকিট। একাধিক ভুক্তভোগী ট্রাক ড্রাইভার অভিযোগ করে জানান, প্রথমে ভাঙ্গার চৌরাস্তার মোড় থেকে টাকা দিতে হয়, দ্বিতীয় মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে, তৃতীয় পুলিয়ার বাজার এলাকায়, তারপরে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের আগে ও পরে। সর্বশেষ পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ডে টাকা না দিলে সেদিন আর সিরিয়াল মিলে না। এসব স্থানে টাকা দিতে কোনো ট্রাক ড্রাইভার রাজি না হলে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্ধারিত ৫০ টাকার স্থলে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই অবৈধ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে স্থানীয় দালাল, বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মী এবং হাইওয়ে পুলিশ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থেকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বরিশাল থেকে আসা গরুর ট্রাক ড্রাইভার আমজেদ হোসেন বলেন, ‘ভাঙ্গায় পুলিশকে ৫০০ দিয়ে আড়িয়াল খাঁ ব্রিজের কাছে আসতেই আরও ৫০০ দিতে হয়েছে। পাঁচ্চর আসার পর এক রাত থাকতে হয়েছে, সেখানেও সিরিয়াল পেতে হাইওয়ে পুলিশকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। এভাবে চলতে আমাদের খুবই ক্ষতির শিকার হতে হয়। সরকার পুলিশ বাহিনীর এই নীরব চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার দাবি জানাই’। তবে শিবচর থানা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ এসব অভিযোগে পুলিশ জড়িত থাকলে তত্ক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। হাইওয়ে পুলিশের ফরিদপুর জোনের সুপার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ এই রুটে নেই। যা হচ্ছে তা কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মাত্র। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow