Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১৮
ইটভাটায় যাচ্ছে মাটির উপরিভাগ উর্বরতা হারাচ্ছে জমি
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শত শত একর তিন ফসলি জমির মাটির উপরিভাগ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। ইট তৈরির জন্য এ মাটি কিনে নিচ্ছে স্থানীয় ভাটাগুলো। মাটির উপরিভাগ কেনাবেচায় গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। কৃষকের অসচেতনতা ও অভাব-অনটন পুঁজি করে দালালরা মাটি কেনাবেচার ব্যবসা করছেন। এতে ঊর্বরতা হারাচ্ছে তিন ফসলি জমি।

মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞদের মতে জমির মূল ঊর্বরাশক্তি থাকে উপরিভাগে। উপরিভাগের মাটি নিয়ে যাওয়ার কারণে জমি যে ঊর্বরাশক্তি হারায় তা পূরণ হতে আট থেকে ১০ বছর লেগে যেতে পারে। এ ছাড়া উপরিভাগ কেটে নেওয়ার ফলে জমি নিচু হয়ে যাচ্ছে। তাই অতিরিক্ত পানি জমে থাকায় জমিগুলো আবাদের যোগ্যতাও হারাচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, মাটির উপরিভাগের এক ফুটের মধ্যে জমির ঊর্বরাশক্তি থাকে। যে কারণেই হোক এ মাটি কেটে নিলে ওই জমির সব ঊর্বরাশক্তি চলে যায়, যা পূরণ হতে লাগে প্রায় ১০ বছর। তিনি আরও বলেন, আবাদি জমির মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ অবস্থায় জমির মালিকদের সচেতন করাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ। জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শেষেই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। উপজেলার প্রায় ১০টি ভাটার মালিক ইট তৈরির মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দালাল লাগিয়ে দেন মাটি সংগ্রহের কাজে।

 দালালরা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি ভ্যান মাটি কেনেন ২০০-২৫০ টাকায়। পরে ভাটা মালিকদের কাছে উচ্চমূল্যে তা বিক্রি করেন। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যেসব জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ফেলা হয়েছে সেসব জমিতে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে। ঊর্বরাশক্তিও হারিয়ে ফেলায় তাতে ভালো আবাদ হয় না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow