Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১৯
দখল-ভাঙনে খুলনার শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে!
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনা মহানগরীর উত্তর-পূর্ব প্রান্তে খরস্রোতা ভৈরব নদ। দুই দশক আগে নদীভাঙন থেকে খুলনা শহর রক্ষার জন্য ভৈরব নদের সাড়ে তিন কিলোমিটার তীর এলাকা সংরক্ষণে ‘শহররক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় অবৈধ দখল ও ভাঙনে বর্তমানে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, জেলখানা ঘাট থেকে খুলনার ঐতিহ্যবাহী বড়বাজারের কালীবাড়ি ও দেলদার ঘাট পর্যন্ত নদীর পাড়ে বাঁধে যে ভারী ব্লক দেওয়া হয়েছিল, তা বহু আগেই নদীগর্ভে চলে গেছে। কয়েকটি স্থান থেকে ব্লক চুরিও হয়েছে, বাঁধে দেখা দিয়েছে ফাটল। এসব স্থানে বাঁধ দখল করেই গড়ে উঠেছে ইট-বালু বিক্রির গোলা, ভাতের হোটেল, অবৈধ পাকা স্থাপনা ও আখ বিক্রির দোকান। ভাঙনে ইতিমধ্যে বড়বাজারের একটি বড় অংশ নদীতে ভেঙে গেছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধের ব্লক দেবে গেছে। ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বাঁধের ওপরে বাঁশ-খুঁটি ও সিমেন্টের পিলার গেঁড়ে টং তৈরি করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাজারের দেলদার ঘাট থেকে ডাবঘাট পর্যন্ত বাঁধ খাড়া হয়ে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো ভয়াবহ ভাঙনে বাঁধের এ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বাঁধটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় খুলনা জেলা কারাগার, সদর হাসপাতাল, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বড় বাজার ও ঘাট এলাকা ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে এডিবির অর্থায়নে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেকেন্ডারি টাউন ইনট্রিগ্রেটেড ফ্লাড প্রটেকশন প্রকল্পের আওতায় খুলনা শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। ২০০০ সালের জুন মাসে এই কাজ শেষ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও বাঁধটি সংস্কার করা হয়নি। ২০১২ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২২ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিটি করপোরেশনকে। পাউবোর নেওয়া ওই প্রকল্পে বাঁধের ৭ কিলোমিটার জায়গা পুনরাকৃতিকরণ, বাঁধের ঢাল প্রতিরক্ষামূলক কাজ ৪ কিলোমিটার, স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ দশক ৫ কিলোমিটার ও দুটি স্লুইস গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পাউবো কর্তৃপক্ষ ওই সময় আবেদন করেন। খুলনা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস বলেন, বাঁধটি সংস্কার ও সুরক্ষার একটি প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি বিদেশি সংস্থা করণীয় নির্ধারণে কাজ করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow