Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫৬
‘একটা হাড়ের জন্য অপেক্ষা করছি’
খায়রুল ইসলাম, গাজীপুর
‘একটা হাড়ের জন্য অপেক্ষা করছি’
নিখোঁজ শ্রমিকের ছবি হাতে স্বজনরা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে ট্যাম্পাকো ফয়েলস প্যাকেজিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ষষ্ঠ দিনেও কারখানার সামনে নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনের সন্ধানে ভিড় করছেন। তারা বলছেন, মৃতদেহ না পেলেও তার দেহের একটা হাড়ের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। নিখোঁজ স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে। তারা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের পাশে এসে ভিড় করছেন। নিখোঁজ জহিরুলের ভগ্নিপতি আলাউদ্দিন বলেন, ট্যাম্পাকোতে আগুনের খবর শুনে কারখানায় গিয়ে জহিরুলকে খুঁজেছি। টঙ্গী, ঢাকা ও বিভিন্ন হাসপাতালে তাকে পাইনি। ঈদের রাতেও ঢাকা মেডিকেলের মর্গে তাকে খুঁজেছি। পাইনি। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উপুলকি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩৭)। তিনি ট্যাম্পাকোর প্রিন্টিং শাখায় তিন বছর ধরে কাজ করছেন। আলাউদ্দিন বলেন, রাত-দিন পরিবারের কমপক্ষে একজন লোক ট্যাম্পাকোর সামনে থাকি। মৃতদেহ না পেলেও তার দেহের একটা হাড়ের জন্য অপেক্ষা করছি। জহিরুলকে এখানে না পেলে ডিএনএ-ই ভরসা। নিখোঁজ মুরাদের বাবা তাহের আলী বলেন, পেটের দায়ে আমার ছেলে কারখানায় কাজ করেছে। সে ফ্লোরে কাজ করত। তিন ছেলের মধ্যে সে দ্বিতীয়। আমার কোনো ছেলেকে বেশি দূর পড়াশোনা করাতে পারিনি। তাহের আলী তার পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে শনিবার থেকেই ছেলের খোঁজে ট্যাম্পাকোর সামনে প্রতীক্ষা করছেন। তার বড় ছেলে বাবুল গাড়িচালক ও ছোট ছেলে রাকিব স্কুলে পড়ে। মো. মুরাদ হোসেন (২২) চার বছর ধরে ট্যাম্পাকোতে হেলপার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বাবা তাহের আলী। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবারও নিখোঁজ স্বামীকে ট্যাম্পাকোর ধ্বংসস্তূপে খুঁজতে এসেছেন পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, শনিবার থেকে খাবার খেয়েছি কিনা মনে নেই। ঈদের দিন রাতে গুড়া মাছ দিয়ে এক প্লেট ভাত খেয়েছি, সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। শুধু বাঁচার জন্য খাওয়া। পারভীন আক্তারের স্বামী মো. আজিম উদ্দিন (৩৬)। তিনি মাগুরা জেলা সদরের ছনপুর গ্রামের মো. সালেক মোল্লার ছেলে। তিনি এ কারখানায় সহকারী পেইন্টিং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। পারভীন বলেন, শনিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে বাসা থেকে খেয়ে আমার স্বামী বের হন। কিছুক্ষণ পরই শুনি আগুন লাগার খবর। প্রথমে কারখানা, পরে টঙ্গী হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, আবেদা মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও শেষে আবার টঙ্গী হাসপাতাল ঘুরে কোথাও আমার স্বামীকে পাইনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow