Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৮
রেলের তিন একর জমি ৩২ বছর বেদখল
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার ভানুগাছ সড়কে রেলওয়ের প্রায় তিন একর জমি ৩২ বছর ধরে জবরদখল করে রেখেছেন কিছু প্রভাবশালী। প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ওই জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, ১৯৮৪ সালে রুপসপুর মৌজার ৩ নম্বর খতিয়ানের দুই দশমিক ৮৭ একর জমি লিজ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১৮১ জন নির্ধারিত ফি দিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রেলওয়ে এস্টেট বিভাগে আবেদন করেন। তখন আবেদনকারীদের মধ্যে কেবল পাঁচজনকে ২০ ফুট বাই ২০ ফুট করে প্লট বরাদ্দ দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে প্লটপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান, ওয়াহিদ সামাদ, তাজু মিয়া, রফিক উল্লা ও আব্দুল কাদের ওই সময়ে প্লটের দখলে যেতে পারেননি। কারণ ১৯৮৩ সাল থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি রেলওয়ের এই জমি দখলে নিয়ে নিজেদের স্বত্ব দাবি করে মৌলভীবাজার সাব জজ আদালতে মামলা করেন। যদিও কোনো আদালতেই দখলদার পক্ষ মামলায় জয়ী হতে পারেননি। নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশন পর্যন্ত প্রতিটি মামলার রায়ই গেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৯ জুন প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত চার সদস্যের বেঞ্চ দখলদারদের আবেদন খারিজ করে রেলওয়ের পক্ষে  রায় দেন।

উচ্চ আদালতের রায়ের পরও রেলওয়ে এস্টেট কর্তৃপক্ষ এখনও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

বর্তমানে ওই জমিতে ২৫/৩০টি স্থাপনা রয়েছে। দখলদাররা সেখানে দোকান বানিয়ে ৩২ বছর ধরে ভাড়া তুলছেন। কেউ কেউ আবার দোকানের পজিশন বিক্রির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। ফলে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওই জমির প্রায় দুই একর নার্সারি প্রকল্পের নামে দখল নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন-সচিব (ভূমি) শাহ্ মো. ইমদাদুল হক বলেন, আপনারা এসব অনিয়ম পত্রিকায় প্রকাশ করেন। আমরা তা কাটিং করে উচ্ছেদ অভিযান চালাবো।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow