Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২০
ধর্ষিতা কিশোরীর আত্মহত্যা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পিরারবাড়ি গ্রামে ১৫ বছরের কিশোরী সীমা সরকার ধর্ষণের শিকার হয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাতে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। ওই কিশোরীর মুত্যু নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন ধর্ষিতা কিশোরী মনের ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তাদের দুজনের মধ্যে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাইবোন হওয়ায় এ সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না এবং বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার রাতে মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে এলাকার লোকজন ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত (চাচাত ভাই) পলাশ সরকারকে (৪০) ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মাধব সরকার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত পলাশের বড় ভাই লিটন সরকারকেও আসামি করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে পলাশ সরকারকে কোটালীপাড়া আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বীণা দাস তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

নিহতের মা জানান, গত বুধবার রাতে পলাশ সরকার বাড়ির পাশে পোলট্রি খামারের মধ্যে সীমাকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে বাড়ির লোকজন। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে শালিস বৈঠক হয়।

তখন মুরব্বিরা পলাশ সরকারকে ভর্ত্সনা করে ও সীমাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া বাবদ আর্থিক জরিমানা করেন। তখন পলাশের বড় ভাই লিটন সরকার জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শালিস বৈঠক থেকে চলে যান।

নিহত সীমার বৌদি ভক্তি সরকার বলেন, গত বুধবার ধর্ষণের পর গতকাল দুপুরে বিশ্বকর্মা পূজা থাকায় বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সুযোগে পলাশ সীমাদের ঘরে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জায় সীমা ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সীমা মারা যায়। তিনি তার ননদের মৃত্যুর জন্য দায়ী পলাশ সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পলাশের স্ত্রী পুষ্পরানী সরকার বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে সীমার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে শালিস বৈঠকে তাদের দুজনকে মারপিট করা হয়। এতে লোকলজ্জায় সীমা আত্মহত্যা করেছে।

গোপালগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি সার্কেল) আমীনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযুক্ত পলাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow