Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৮
পুলিশি হয়রানি ও চার ব্যবসায়ী আটকের জেরে উত্তাল শ্রীপুর
সড়ক অবরোধ বন্ধ দোকানপাট
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

পুলিশি হয়রানি ও চার ব্যবসায়ী আটকের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর। উপজেলার বরমী বাজারের দোকানপাট বন্ধ, সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন বরমী বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা। গতকাল দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বরমী বাজার জনতার মোড়ে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। আটক ব্যবসায়ীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরমী বাজারের দোকানপাট ও বরমী বাজারের সঙ্গে রাস্তাঘাটসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাদা পোশাকে চার ব্যক্তি বরমী বাজারে পলিথিন জব্দের নামে আমীর ট্রেডার্সে অভিযান চালান। তারা ওই দোকানে পলিথিন জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা ম্যাজিস্ট্রেটবিহীন ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রশ্ন তুলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বরমী বাজার বণিক সমিতিতে ওই ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় শাহাদাত হোসেন শামীম, শরীফ মোড়ল, বাবুল আকন্দ ও ভাপন দাস নামে চার ব্যবসায়ীকে। তবে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক আমির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের চার সদস্যের একটি দল বরমী বাজারের কয়েকটি দোকান থেকে পলিথিন জব্দ করে। এতে ওই ব্যবসায়ীদের উসকানিতে ডিবি পুলিশের কনস্টেবল ইয়াসিন ইটপাটকেলে আহত হন। বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি অহিদুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মোড়লের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন বরমী বাজারের ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতা, আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস ছামাদ শেখ বলেন, কয়েক মাস ধরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও শ্রীপুর থানা পুলিশ বরমী বাজারের ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করছে। ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেনের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ৪০ হাজার টাকা উেকাচ নেয়। ১৫ আগস্ট রাতে শ্রীপুর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান ফোর্স নিয়ে চুন্নি লাল সাহার চাতাল কারখানার ব্যবস্থাপক শঙ্কর সাহা ও চুন্নি লাল সাহার ছেলে সমীর সাহাকে কারখানা অফিসে দায়িত্ব পালন অবস্থায় আটক করে। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সমীর সাহাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কারখানার ব্যবস্থাপক শঙ্কর সাহাকে অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে আদালতে পাঠানো হয়। অথচ শঙ্কর সাহার নামে দেশের কোনো থানায় একটি জিডিও নেই।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মোড়ল বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া সাদা পোশাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দোকানে হানা দেয়। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে নিরীহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নীরব চাঁদাবাজি করছে। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক বাদল সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাবেক মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রহমত আলী পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির নানা প্রশ্ন তুলে ধরেন। এ সময় শ্রীপুর থানা পুলিশের প্রতিনিধি উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন তা এড়িয়ে যান।

up-arrow