Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০২:৫০
নেত্রকোনা মহিলা লীগ সম্মেলনে হাতাহাতি চেয়ার ভাঙচুর
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ভাঙচুর হয়েছে। এ সময় শ্যামলেন্দু পাল ও পল্লব চক্রবর্তী নামে দুই সাংবাদিক আহত হন। গুরুতর আহত পল্লব চক্রবর্তীকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় পাবলিক হল মিলনায়তনে সম্মেলন উদ্বোধন করেন মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পিনু খান এমপি। সভাপতিত্ব করেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা। প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসমা জেরিন ঝুমু। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মতিয়র রহমান খান, মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক কামরুন্নেছা মান্নান। এ ছাড়া  মঞ্চে ছিলেন পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূর খান মিঠু এবং সাবেক পৌর মেয়র ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়। প্রথম অধিবেশন শেষে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসমা জেরিন ঝুমু নেত্রকোনা জেলা মহিলা লীগ সভাপতি পদে কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, সাধারণ সম্পাদক হাবিবা রহমান শেফালী, যুগ্ম সম্পাদক আয়শা খানম ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তারের নাম ঘোষণা করেন। কমিটি ঘোষণাকালেই মঞ্চের সামনে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, হাতাহাতি চলে। উদ্ভট অবস্থায় বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম থেকে আসা নারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয় নেন। এ সময় কর্তব্য পালনরত সাংবাদিকদের ধাওয়া করে প্রথম আলো জেলা প্রতিনিধি পল্লব চক্রবর্তীর ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় জেলার প্রবীণ সাংবাদিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল আহত হন। উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, মন্ত্রী পরিবারের রাজত্ব চলছে এখানে। সবকিছু তাদের মতেই হবে। আজ তাদের হাত থেকে জেলার বিভিন্ন গ্রাম উপজেলা থেকে আসা নারী এমনকি কেন্দ্রীয় নারী নেত্রীরাও রেহাই পেলেন না। তারাও লাঞ্ছিত হয়েছেন। সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এটি বড়ই দুঃখজনক।

মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পিনু খান এমপি বলেন, এভাবে হৈ-হট্টগোল করলে ভবিষ্যতে কোনো মহিলা কিন্তু আর আপনাদের সংগঠনে নেত্রকোনা আসবে না। মহিলাদের আপনারা যদি ভয় দেখান তাহলে আগামীতে ইলেকশনে মহিলাদের ভোট পান কিনা সন্দেহ আছে। আমি বিনীত অনুরোধ করছি সম্মেলন করতে দিন। হট্টগোল করলে সমস্যা বাড়বে। এ সময় উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এসেই মাইক নিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে বলেন।

up-arrow