Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৯
বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও কমেনি লোডশেডিং
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি কাপ্তাই লেকে পর্যাপ্ত পানি থাকায় বিদ্যুৎ  কেন্দ্রের উৎপাদন এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। সচল হয়েছে কেন্দ্রের সব ইউনিট। তারপরও ঘন ঘন  লোডশেডিং ও অসহনীয় লো-ভল্টেজে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। প্রায় সময়ই অন্ধকারে থাকছে রাঙামাটি শহর। তা ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ  কেন্দ্রের ৫ ইউনিটের মধ্যে চারটি দিয়ে ১৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, রাঙামাটি শহরের বিদ্যুতের চাহিদা আছে সাড়ে ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু বিদ্যুৎ লাইনে ১০ মেগাওয়াটের চেয়ে বেশি লোড নিতে সমস্যা হয়। ফলে চাহিদা অনুসারে রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটি ও ট্রান্সফরমারে ত্রুটি  দেখা দিলে তাতেও  অনেক সময় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যাহত হয়। রাঙামাটির কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন  কেন্দ্রটি কাপ্তাই লেকে পরিমাণমতো পানি থাকলে স্বাভাবিক উৎপাদন সম্ভব হয়। বর্তমানে লেকে অতিরিক্ত পরিমাণ পানি থাকায় কেন্দ্রে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ১৯৬০ সালে কাপ্তাইয়ে বাঁধ দিয়ে নির্মিত হয় দেশের প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এটি নির্মাণের ফলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার প্রায় ৫৪ হাজার একর চাষযোগ্য জমি পানিতে তলিয়ে যায়। উদ্বাস্তু হন লক্ষাধিক পরিবারের মানুষ। কিন্তু জেলাবাসীর এতটা ক্ষতিসাধিত হয়ে এ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি নির্মিত হলেও শুরু থেকে ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রের উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় গ্রিডে। আর রাঙামাটির স্থানীয় জনগণকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ বিতরণের শর্তে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও সে শর্ত আজও বাস্তবায়ন করা হয়নি। মানববন্ধন : লোডশেডিং বন্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে গতকাল সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে রাঙামাটিবাসীর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো, রাঙামাটি বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবু সৈয়দ। বক্তারা অবিলম্বে রাঙামাটিতে লোডশেডিং বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow