Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫২
কোটি টাকার খাল কৃষকের গলার ‘কাঁটা’
নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি
কোটি টাকার খাল কৃষকের গলার ‘কাঁটা’
নালিতাবাড়ীতে সেচসুবিধার জন্য খনন করা খাল

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় সেচসুবিধার জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য দর্শা খাল খনন করা হয়। সঠিকভাবে খননকাজ না হওয়ায় খালের ভাটির পানি প্রবাহিত হয় উজানে।

এতে সেচসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক। খালটি খননের সময় দুই পাড়ে যত্রতত্র মাটি ফেলায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে অনেক জমি। এ ছাড়া সড়ক কেটে দায়সারা সরু ব্রিজ স্থাপন করায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এই পথে চলাচলকারীরা। খাল খননে সাব ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াজ করুনী বলেন, ‘বর্ষাকালে খালটি খনন করা হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার পরও মাটি নরম থাকায় আবার খালে নেমে আসে। বর্ষা শেষে ওইসব স্থান আবার খনন করে দেওয়া হবে। ’ দায়িত্বপ্রাপ্ত  এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খালে বিভিন্ন স্থানে মাটি নরম থাকায় ঠিকমতো খনন করা সম্ভব হয়নি। ওইসব স্থানে পুনরায় খনন করা হবে। আশা করি তখন দর্শা খালে পানি চলমান থাকবে এবং কৃষক উপকৃত হবেন। নালিতাবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাকরকান্দি ও রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ দর্শা খালটি খননের উদ্যোগ নেয় সরকার। ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ৩২ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে খাল খননের দায়িত্ব পায় রাজশাহীর গোলাম সারোয়ার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে চলতি বছরের ১১ মে থেকে ১৭ জুনের মধ্যে খাল খনন শেষ করা হয়। তবে অনেক স্থানে মাটি ঠিকমতো না কাটার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সরেজমিন দেখা যায়, কাকরকান্দির মানিককুড়া দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি ভোগাই থেকে খালটি ভাটিতে হালুয়াঘাটের বাঘাইতলার দর্শা পর্যন্ত খনন করা হয়। সংযোগস্থল থেকে ভাটিতে কার্যাদেশ অনুযায়ী চওড়া এবং গভীর করা হয়নি। ফলে খালে চিরায়ত নিয়মে যে স্রোত থাকার কথা ছিল, বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো। বুড়ি ভোগাই থেকে দর্শার খাল ৪/৫ ফিট উঁচু থাকায় এখন এই খালের পানি দুই দিকেই প্রবাহিত হয়। এলকাবাসী দর্শার খালে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। খালে ঠিকমতো পানি না থাকায় দুটি ইউনিয়নের মানিককুড়া, বরুয়াজানি, সাপমারি, বেতকুড়ি, বিশগিরীপাড়া, নয়াপাড়া বনকুড়া গ্রামের প্রায় এক হাজার কৃষকের তিন হাজার একর জমি শুকিয়ে গেছে। খালের দুই পাড়ে যত্রতত্র মাটি ফেলায় জমি নষ্ট হয়ে গেছে শতাধিক একর আবাদি। খালের ওপর বনপাড়া মসজিদ সংলগ্ন সড়ক কেটে অস্থায়ীভাবে যোগাযোগের জন্য পাঁচ ফুট প্রশস্ত একটি পুরনো বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়েছে। সেতুটি সরু হওয়ায় এ সড়কে চলাচলকারীরা পোহাচ্ছেন চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসী দ্রুত খালটি খনন ও যোগাযোগের জন্য স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow