Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:৫৬
সরকারি গুদাম থেকে বার বার সার গায়েব
তদন্তে কমিটি হয়, দেখে না আলোর মুখ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বিসিআইসি বাফার গুদাম থেকে বার বার গায়েব হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকার ইউরিয়া সার। ঘটনার পরই গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তবে তা আলোর মুখ দেখে না। সর্বশেষ গত এপ্রিলে গুদাম থেকে হাওয়া হয়ে যায় প্রায় কোটি টাকার ইউরিয়া। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে চার মাস ধরে। তবে এখনো কূল-কিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট তদন্ত দল। বিপুল পরিমাণ এই সার কিভাবে গুদাম থেকে গায়েব হলো তার হিসাব নেই কর্মকর্তাদের কাছে। দায় নিতে চান না কেউ। এর আগে ২০১১ সালে এই গুদাম থেকে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের ইউরিয়া সার গায়েব হয়ে যায়।

জানা যায়, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের কৃষকদের ইউরিয়া সার সরবরাহ করা হয় কালীগঞ্জ বাফার সরকারি গুদাম থেকে। বর্তমানে এখানে পাঁচ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন সার মজুদ আছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে একের পর এক গায়েব হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বস্তা ইউরিয়া। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৫৪৭ মেট্রিক টন ইউরিয়ার হদিস মিলছে না। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষক ও গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা। এর আগে ২০১১ সালে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের চার হাজার ২৮০ বস্তা ইউরিয়া একই রকম ঘাটতি পাওয়া যায়। সে সময় গুদাম ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল সার বিক্রি করে দেওয়ার। বিসিআইসির সিনিয়র জিএম মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পৃথক দুটি টিম তদন্ত কাজও শুরু করেছিল। তবে গুদাম ইনচার্জ ঘটনার কিছু দিনের মাথায় রাতের আঁধারে সপরিবারে পালিয়ে যান। এবারও ঢাকা থেকে বিসিআইসির (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) বিপণন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান ব্যবস্থাপক মঞ্জুর রেজার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে এপ্রিল মাসে। চার মাস পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত রিপোর্ট। এসবের কোনো দায় নিতে চান না কালীগঞ্জ বাফার গুদামের কর্মকর্তারা। গুদাম ইনচার্জ মাসুদুর রহমান রানা জানান, সারগুলো গুদামের বাইরে খোলা আকাশের নিচে থাকায় কিছু সার নষ্ট হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow