Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৩
সবুজে দুলবে ত্রিশাল
সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ
সবুজে দুলবে ত্রিশাল
স্কুল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ত্রিশালের ইউএনও —বাংলাদেশ প্রতিদিন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা। শিল্পাঞ্চল খ্যাত ভালুকা উপজেলার লাগোয়া এ উপজেলায়ও গড়ে তোলা হচ্ছে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এতে কাটা পড়ছে গাছ। উজাড় হচ্ছে সবুজ বন। বাড়ছে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ। এ অবস্থায় প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু জাফর রিপন। তিনি গত এপ্রিলে তার নতুন কর্মস্থল ত্রিশালে আসেন। এসেই করেন ত্রিশাল সবুজায়ন পরিকল্পনা। করেছেন একটি লোগো; যেখানে লেখা আছে— ‘বাল্যবিবাহকে না বলি, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি, বেশি করে গাছ লাগাই, সবার জন্য গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি’। এ ছাড়া তার মতে শিশু-কিশোরদের সবুজ বিপ্লবের সঙ্গে জড়িত রাখলে মাদক ও জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা থেকে অনেক দূরে রাখা যাবে। জান যায়, ‘সবুজের অঙ্গীকার, সুস্থ দেহ সবুজ মন’ এমন স্লোগান নিয়ে ত্রিশাল সবুজায়নে গত চার মাসে ইউএনও বিতরণ করেছেন ৩ লাখ ৫ হাজার গাছের চারা। তদারকির জন্য হাতে নিয়েছেন নতুন প্রকল্প ‘গাছের হেলথ কার্ড’। স্থানীয়রা বলছেন, আগামী দু-এক বছরের মধ্যেই সবুজে দুলবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিল ত্রিশাল উপজেলায় যোগদান করেন ইউএনও রিপন। কদিনের মধ্যেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেন ত্রিশালকে সবুজায়ন করার। তিনি বেছে নেন ত্রিশালের ২৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মিটিং করেন শিক্ষকদের নিয়ে। পরে স্কুল-কলেজে গিয়ে বিতরণ করেন ফলদ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা। এর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, হরীতকী, পেয়ারাসহ নানান প্রজাতির গাছ। গত মাস পর্যন্ত বিতরণ করা হয় ১ লাখ ২০ হাজার চারা। আর চলতি মাসের প্রথম দিন ১২ ইউনিয়নের ১৩টি স্পটে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার গাছের চারা। চারা রোপণ-পরবর্তী অবস্থা জানার জন্য করা হয়েছে একটি হেলথ কার্ড; যা শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসের প্রথম দিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানাতে হবে ‘গাছের অবস্থা কেমন’। এতে জানা যাবে ওই গাছটির সর্বশেষ অবস্থা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইউএনও আবু জাফর রিপন বলেন, ‘বিতরণ করা গাছগুলোর কী অবস্থা তা জানার জন্য হেল্প কেয়ার চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ এলাকায় ১০টি বাগান করা হবে। এর মধ্যে দুটি আমবাগান, একটি নারকেল ও একটি পেয়ারারবাগানের কাজ শেষ হয়েছে। আর ময়মনসিংহ-ঢাকা ফোর লেনের দুই পাশে দ্রুতই নেওয়া হচ্ছে গাছ লাগানোর উদ্যোগ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ত্রিশালে সবুজায়নের বিপ্লব ঘটবে। ’সাখুয়া ইউনিয়নের আখরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল মউলা এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘পরিবেশের একটি অপরিহার্য অঙ্গ গাছ। রিপন স্যারের কল্যাণে সে গাছ আজ প্রতিটি শিক্ষার্থী বাড়ির পাশে রোপণ করেছে। আমরা অভিভূত। ’ দাফতরিক কাজের পাশাপাশি ‘সবুজ ত্রিশাল’ গড়ার প্রত্যয়ে ইউএনও রিপন কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান বলেন, ‘ত্রিশালের আলোকে অন্য উপজেলাগুলোয় আমরা পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম হাতে নেব। আশা করছি পুরো ময়মনসিংহ হয়ে উঠবে সবুজ। আর গাছের হেলথ কার্ডের বিষয়টি মডেল হয়ে থাকবে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow