Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১৬
নরসুন্দা পুনঃখনন এগোচ্ছে না
সাইফউদ্দীন আহমেদ লেনিন, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা নদী পুনর্খনন ও পুনর্বাসন প্রকল্পের চার বছর মেয়াদ শেষ হতে মাত্র তিন মাস বাকি। অথচ নদী খননসহ ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পের ২২টি কাজের কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো দেখা যায়নি। মৃত প্রায় নরসুন্দার পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হলেও নদীতে পানির প্রবাহ নেই। ৩৫ কিলোমিটার নদী খননের মধ্যে ৩৩ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি কাজই অগোছালো ও যেনতেনভাবে সম্পন্ন করার তোড়জোড় চলছে। এর বেশিরভাগ টাকাই লুটপাট করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠেছে। নদীর পাড় রক্ষার জন্য বসানো ব্লকগুলো কয়েক মাস যেতেই একাধিক স্থানে ধসে পড়েছে। ব্লকগুলোও নিম্নমানের। কোনো কোনো ব্লকে কংক্রিট ও সিমেন্টের পাশাপাশি মাটির ঢিলাও পাওয়া গেছে। ছয় কিলোমিটার ওয়াকওয়েতে বসানো ইট খুবই নিম্নমানের। শহরের বেশ কয়েকটি বিতর্কিত স্থাপনার পাশে ওয়াকওয়ের নির্মাণকাজ আটকে রয়েছে। মূল নকশার বাইরে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বাড়তি চারটি ফুট ব্রিজও নির্মাণ করা হচ্ছে। মেশিন বসিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে পৌর পার্কের স্থানটি ভরাট করা হয়েছে। পার্কের কাজ ৭৬ ভাগ শেষ দেখানো হলেও এখনো দৃশ্যমান অনেক কিছুই নেই পার্কে। নির্মিত সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ইট-পাথর উঠে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত নির্মাণ কাজের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নদীতে নির্মিত ঘাটের পাশেই নামানো হয়েছে সুয়ারেজ লাইন। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সেলিম কবীর বলেন, ১১০ কোটি টাকার প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পথে। অথচ প্রকল্পটির কোনো স্থানে গিয়ে শেষ হয়েছে তা কেউ বলতে পারছে না। ব্যবসায়ী মাসুদুল হাসান বলেন, নদী খননের শুরুতে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তার মতো অনেক ব্যবসায়ীকে অমানবিকভাবে উচ্ছেদ করা হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প পরিচালক আবদুস সালাম মণ্ডল বলেন, সঠিক নিয়মেই কাজ হচ্ছে এবং যথাসময়ে শেষ হবে। নরসুন্দা প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ আগস্ট তিনজন সচিব কিশোরগঞ্জে এসে গণশুনানি করেন। শুনানিতে তিন সচিব দুর্নীতিবাজ কাউকে ছাড় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল একাধিকবার সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তদন্ত চলছে। শেষ হলে বলা যাবে কোথায় কি হয়েছে। ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow