Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৯
সমস্যার স্তূপে চাপা পড়েছে মেহেরপুর হাসপাতাল
পর্যাপ্ত ডাক্তার ওষুধ যন্ত্রপাতি নেই, নেই প্রয়োজনীয় শয্যা
মেহেরপুর প্রতিনিধি

সমস্যার স্তূপে চাপা পড়েছে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে চারদিকে শুধু নেই।

পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই, ওষুধ নেই, যন্ত্রপাতি নেই। নেই প্রয়োজনীয় শয্যা। ফলে জেলাবাসী প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের অন্যতম মৌলিক চাহিদা চিকিৎসাসেবা থেকে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি বিভাগের প্রধান ডা. তাপস কুমার জানান, অনেক পত্র চালাচালির পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিছু যন্ত্রপাতি চালু করে দিয়েছে। বাকিগুলো সচল করা গেলে রোগীদের আধুনিক অনেক চিকিৎসা এখানেই করা সম্ভব হবে। তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, এত স্বল্প জনবল ও রসদ দিয়ে এতবড় একটি হাসপাতাল পরিচালনা করা দুরূহ ব্যাপার। চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক, ওষুধ সরবরাহ, যন্ত্রপাতি চেয়ে বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। জানা যায়, ১০০ শয্যার মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ২০১৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু ২৫০ শয্যার সুযোগসুবিধা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন না হওয়ায় আগের কাঠামোতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সবকিছু। হাসপাতালে ৪১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১১ জন। নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১২টি পদের ছয়টিই শূন্য। মেডিকেল অফিসারের ১৮ পদের বিপরীতে আছেন দুজন। এনেসথেটিস্ট ও ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট পদও খালি। এই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। এদের মধ্যে ভর্তি থাকেন ২০০-২৫০ জন। অনেকে সময়মত ডাক্তার-ওষুধ না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে কাতরান। অনেক সময় জরুরি বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় রোগীদের ফিরে যেতে হয়। প্রসূতি বিভাগের অবস্থা আরও করুণ। টাকা না দিলে এখানে নার্স দ্বারা রোগী নানা হয়রানির শিকার হন। হাসপাতালের পাঁচটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার কথা থাকলেও ডাক্তার-নার্স সংকটের অজুহাতে চালু আছে দুটি। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শয্যার অভাবে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়। রোগীর চাপ বাড়লে বারান্দায় থাকতে বাধ্য হন অনেকে। হাসপাতালে খাবার বরাদ্দও ১০০ জনের। ফলে অধিকাংশ রোগীকে খাবার কিনে খেতে হয় বাইরে থেকে। খাবার নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে ১০ টাকায় গেট পাস কিনতে হয়। পাস না থাকলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেটে দাঁড় করিয়ে রাখেন দারোয়ান। যত্রতত্র রক্ত, পুঁজ মাখা গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা পড়ে থাকে। হাসপাতাল চত্বরেও ময়লার স্তূপ। চলাচল করতে হয় নাকে রুমাল বেঁধে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে রোগ নিয়ে বিশ্বের যে কেনো বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ইকো-কার্ডিও আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন দুটি সরবরাহকালীন সময় থেকে অকেজো পড়ে আছে। ৩৫ লাখ টাকা দামের সেন্ট্রাল ভ্যাকুয়াম প্লান্ট মেশিনটি হয়ে আছে অচল। তিনটি স্ট্রিম স্টেরিলাইজার অটোক্লেভ মেশিন, চোখের পরীক্ষা ও অপারেশনের জন্য দুইটি চক্ষু অপারেটিং মাইক্রোসকোপ ও দুইটি স্প্রিট ল্যাম্প মেশিন বিশেষজ্ঞ না থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ। তাছাড়া হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীকে কৃত্রিমভাবে সচল রাখতে দুটি প্যাথলজি মাইক্রোসকোপ ও দুটি ডি-ফ্রেবিলেটর মেশিন থাকলেও তা কাজে আসছে না। স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জেনারেটর দেওয়া হলেও জ্বালানি বাজেট ও অপারেটর না থাকায় তা আজও চালু হয়নি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow