Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৩
মুন্সীগঞ্জে দুই শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল
মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও বন্ধ হচ্ছে না কারখানা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

২০০৫ সালে ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে’ আদালত কারেন্ট জাল নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও মুন্সীগঞ্জে তৈরি হচ্ছে ছোটবড় সব ধরনের মাছ মারার মনোফিলামেন্ট (কারেন্ট জাল)। জাটকা ও সব ছোট মাছের জন্য এ জাল যেন মরণফাঁদ। সরকারি কাগজপত্র, লাইসেন্স ছাড়া জেলায় অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরির কারখানা রয়েছে দুই শতাধিক।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অনেকে এ জাল তৈরি বন্ধ রাখলেও প্রশাসনের লোকজন হাত করে প্রভাবশালীরা চালিয়ে যাচ্ছেন মাছের ‘মরণফাঁদে’র ব্যবসা। মাঝেমধ্যে র‌্যাবের অভিযানে কিছু কারখানাকে জরিমানা করলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না তাদের কার্যক্রম। অভিযান ধারাবাহিক না হওয়ায় উল্টো কারখানামালিকরা উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব করখানায় অভিযান পরিচালনার আগেই মালিককে জানিয়ে দেওয়া হয় অভিযানের তথ্য। ফলে অভিযানে যাওয়ার আগেই বন্ধ রাখা হয় কারেন্ট জাল তৈরির কারখানা। ফলপ্রসূ হয় না ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, পঞ্চসার ইউনিয়নের বিনোদপুর, রামগোপালপুর, মুক্তারপুর, মালির পাথর, দয়ালবাজার, বিসিক, মাদবরবাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্যে তৈরি হচ্ছে মনোফিলামেন্ট (কারেন্ট জাল)। কারেন্ট জাল কারখানা বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, শুধু জেলেদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে এর উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না। এসব জাল তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ মাছ রক্ষা করতে হবে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে কারখানা—এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ফারুক, ইসমাইল, আনিস, মোশারফ, রিপনসহ কয়েকজন মালিক বলেন, ‘যেখানে প্রশাসনের মাথাব্যথা নেই, সেখানে সাংবাদিকরা নিউজ করে কি করবেন। যেহেতু কারেন্ট জালের কারখানা দিয়েছি; সেখানে তো রুটি বানাতে পারি না। কারেন্ট জালই বানাই।’ কারেন্ট জাল কারখানায় অভিযান পরিচালনার আগে তথ্য জানিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাজাদা খসরু বলেন, ‘এটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, থাকবে।’ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম বলেন, ‘নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। যেসব স্থানে এ কারেন্ট জালের কারখানা রয়েছে সেসব স্থান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

up-arrow