Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৩
চালক ও ইঞ্জিন সংকটে ধুঁকছে পশ্চিমাঞ্চল রেল
লালমনিরহাট প্রতিনিধি

চালক ও ইঞ্জিন সংকটে ধুঁকছে পশ্চিমাঞ্চল রেল। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ছয়টি সেকশনে নিয়মিত ৬২টি ট্রেন চলাচল করার কথা থাকলেও তা চলছে না। ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও চালক (ক্রু) সংকটের কারণে ইতিমধ্যে ২০টি ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাকি ৪২টি ট্রেন চালানো হচ্ছে জোড়াতালি দিয়ে। বিভিন্ন ধরনের এই ৪২টি ট্রেন চালাতে অন্তত ৩২টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সেগুলো চলছে মাত্র ১৮টি দিয়ে। এর মধ্যে একটি বাদে বাকিগুলো  মেয়াদোত্তীর্ণ। আর ট্রেন ক্রুর মঞ্জুরিকৃত ২৫৪টি পদের মধ্যে ১২৩টি পদ শূন্য।  লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এই বিভাগের অধীনে রয়েছে ৬টি সেকশন বা  রেলরুট। এগুলো হলো— লালমনিরহাট-বুড়িমারী, লালমনিরহাট-তিস্তা-রমনা বাজার, লালমনিরহাট-পার্বতীপুর, লালমনিরহাট-সান্তাহার, পার্বতীপুর-বিরল এবং কাঞ্চন-পঞ্চগড়। সময়সূচি অনুযায়ী এসব রুটে প্রতিদিন ‘মেইল এক্সপ্রেস’ ২৪টি, ২৬টি ‘লোকাল-মিক্সড’ এবং ১২টি ‘আন্তঃনগর এক্সপ্রেস’ চলাচল করার কথা। কিন্তু ক্রু ও লোকোমোটিভের অভাবে ইতিমধ্যে অনেক ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র মতে, লালমনিরহাট রেল বিভাগের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬২টি লোকোমোটিভ প্রয়োজন। বর্তমানে এখানে আছে মাত্র ৩২টি। এর মধ্যে মেরামতের অযোগ্য হওয়ায় ছয়টি লোকোমোটিভ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আটটি লোকোমোটিভ ট্রেন পরিচালনায় ‘অক্ষম’ হওয়ায় সেগুলো স্টেশনে শুধু শান্টিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ১৮টি লোকোমোটিভ দিয়ে ৪২টি ট্রেন চালানো হচ্ছে। লালমনিরহাট বিভাগীয় সহকারী পার্সোনাল অফিসার ও জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সাজ্জাদ হোসেন জানান, লালমনিরহাট রেল বিভাগের কাছে ৩২টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬১ সালে আমেরিকা থেকে এসেছে ১১টি, ১৯৬৯ সালে কানাডা থেকে ৮টি ও ১৯৭৮ সালে ৯টি, ১৯৮১ সালে হাঙ্গেরী থেকে ৩টি এবং সবশেষ ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য আনা একটি লোকোমোটিভ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগকে দেওয়া হয়। সাধারণত প্রতিটি লোকোমোটিভের ‘ইকোনোমিক আয়ুষ্কাল’ ধরা হয় ২০ বছর। অথচ ১১টির বর্তমান বয়স ৫৪ বছর, ৮টির ৪৬ বছর, ৯টির ৩৭ বছর, ৩টির ৩৪ বছর এবং সর্বশেষ পাওয়া লোকোমোটিভটির বয়স এক বছর।  লালমনিরহাট বিভাগীয় চিফ পাওয়ার (লোকোমোটিভ) কন্ট্রোলার আদম আলী জানিয়েছেন, ‘এই বিভাগের কাছে থাকা আমেরিকার ১১টি ও হাঙ্গেরীর ৩টি লোকোমোটিভ ট্রেন পরিচালনার জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কেবল কানাডার ১৭টি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ১টি দিয়ে কোনো রকমে ট্রেন চলাচল করছে।’ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মতে, ক্রু সমস্যাও প্রকট। মঞ্জুরিকৃত প্রথম ও দ্বিতীয় গ্রেড লোকো মাস্টারের (এলএম) পদ সংখ্যা ৮০টি। বর্তমানে নিয়মিত ২৯ জন ও চুক্তিভিত্তিক হিসেবে ৭ জন কর্মরত আছেন। বাকি পদগুলো শূন্য। সাব-লোকো মাস্টার (এসএলএম) পদের মঞ্জুরিকৃত ৪২টির মধ্যে ২৫টি শূন্য। এছাড়া সহকারী লোকো মাস্টারের ৪০টি পদ শূন্য। মঞ্জুরিকৃত ২৫৪টি ক্রু (লোকো মাস্টার) পদের ১২৩টি পদই শূন্য। লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগীয় সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী আকরাম হোসেন লোকোমোটিভ ও ক্রু স্বল্পতার কারণে ট্রেন পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow