Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৩৮
ব্রিজের নিচে তিন প্রজন্মের বসবাস
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ব্রিজের নিচে তিন প্রজন্মের বসবাস
ময়মনসিংহের ভালুকায় তিন প্রজন্মের তিন নারী —বাংলাদেশ প্রতিদিন

তিনজন তিন প্রজন্মের নারী। মা, মেয়ে ও নাতনি।

এক যুগের অধিক সময় ভূমিহীন অবস্থায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা খীরু ব্রিজের নিচে বসবাস করে তারা। মা আয়েশা খাতুন (৬৫) মেয়ে নাছিমা খাতুন (৪২) ভালুকা বাজারে মাছের আড়তে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নাতনি শারমিন (১০) তাদের কাজের সহায়তা করে। ব্রিজের নিচে থেকেই দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আয়েশা খাতুন। পনেরো বছরে ঝড়, বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিকম্প, ব্রিজ থেকে নদীতে গাড়ি পড়ে যাওয়া সবই ওখানে বসে দেখেছেন তারা। জন্মসূত্রে তাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নে। ওখানে কোনো জমি জমা না থাকায়, আজ থেকে প্রায় পনের বছর আগে ভালুকা সদরের একটি বাসার বারান্দায় আশ্রয় নেন। কয়েকদিন পর বাড়ির মালিক তাড়িয়ে দেওয়ায় ভালুকা খীরু ব্রিজের নিচে বসবাস শুরু করেন। এখানে থেকেই তারা পৌরসভার ভোটার হয়েছেন। পৌর সদরে থেকেও নাগরিকদের সব সুবিধা থেকে দূরে তাদের বসবাস। ভালুকা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা আখতার কয়েকদিন আগে খীরু নদীর পারে বালু সংরক্ষণ করে নদী ভরাট করার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় খীরু ব্রিজের নিচে তাদের সন্ধান পান। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল আহসান তালুকদারকে অবহিত করা হলে, পরে ইউএনও তিন প্রজন্মের তিন নারীকে তার অফিসে ঢেকে শুনেন তাদের কাহিনী। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের উপজেলার উথুরা ইউনিয়নে হাতিবের গ্রামে আশ্রায়ন প্রকল্পে একটি ঘর দেওয়ার কথা বললে প্রথমে রাজি হন। পরে ওখানে আয় রোজগারের ব্যবস্থা না থাকায় আশ্রায়ন প্রকল্পে যেতে অস্বীকৃতি জানান।   উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল আহসান তালুকদার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা আখতার জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীনদের বাড়ি দেওয়ার যে প্রকল্প গ্রহণ করেছেন সে প্রকল্পের আওতায় তাদের একটি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এখন থেকে তারা ব্রিজের নিচে থাকবে না। তাদের জন্য একটি রুম ভাড়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধ আয়েশা খাতুন জানান, ‘আমরা কোনো দিন এ রুম সুবিধা পাইয়াম তা কহনও কল্পনাও করছি না, স্যারে (ইউএনও) ও মেডামের (এসি ল্যান্ড) হাত দিয়া আল্লাহ আঙ্গরে রহমত করছে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow