Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১১
ধুনট ডিগ্রি কলেজ
এমপির লোককে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে চাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

ধুনট ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে সরকারদলীয় স্থানীয় এমপির পছন্দের লোককে পেছনের তারিখে নিয়োগ দিতে  অধ্যক্ষকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। হুমকির মুখে পালিয়ে থাকা অধ্যক্ষ নিরাপত্তা চেয়ে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি পাঠিয়েছেন।

পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অভিযোগ করেছেন অধ্যক্ষ আবু মারজান মো. শাহজাহান। জানা যায়, এই কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে গত ৫ জুন নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কলেজের তৎকালীন সভাপতি এমপি হাবিবর রহমানের পছন্দের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম লিটনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ ও তদবির করা হয়। লিটনকে নিয়োগ দেওয়া হবে এমন কথা আগাম প্রচার হলে দরখাস্তকারী ১৯   প্রার্থী পরীক্ষা বর্জন করেন। এতে নিয়োগ কমিটি বেকায়দায় পড়লে লিটনসহ আরও দুজন ড্যামি প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদিকে গত ২ জুলাই পর্যন্ত কলেজ কমিটির মেয়াদ থাকলেও ৩০ জুন হাইকোর্টের নির্দেশে এমপিকে সভাপতির পদ ছেড়ে দিতে হয়। ১১ জুলাই কলেজ জাতীয়করণের চিঠি আসে। কলেজ জাতীয়করণ হলেই লিটনের নিয়োগ হবে না; তাই এমপির লোকজন অধ্যক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু সিনিয়র শিক্ষক ও যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে জুনিয়র শিক্ষক লিটনকে নিয়োগ দিতে অধ্যক্ষ অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে তার ওপর এমপির লোকজন ক্ষুব্ধ হন। কলেজ সরকারি করার বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পাঁচ সদস্যের একটি টিমের ২৮ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিদর্শন করার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন পরিদর্শক টিমের সদস্যরা বগুড়ায় এসে আরডিএ রেস্ট হাউসে রাতযাপনকালে এমপির পিএস কোরবান আলী মিলনের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে পরদিন কলেজ পরিদর্শন করেনি পরিদর্শক কমিটি। অধ্যক্ষ জানান, উপাধ্যক্ষ পদে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য লিটনকে পেছনের তারিখে নিয়োগ দিতে স্থানীয় এমপির পিএস কোরবান আলী মিলন চাপ অব্যাহত রেখেছেন। তাকে অবরুদ্ধ ও হত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় ধুনট ও শেরপুর থানায় ডায়েরি করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে থানায় ডায়েরি পাঠিয়েছেন। এর কপি আইজিপি ও বগুড়ার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এটি পেলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ ধরনের কোনো জিডির কপি পাওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে এমপির পিএস কোরবান আলী মিলন জানান, ধুনট ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণে এমপি ভূমিকা রাখলেও অধ্যক্ষ এমপি স্যারকে সময় দিচ্ছেন না। পরিদর্শক টিম আসার ব্যাপারে এমপিকে অবহিত না করা এবং উপাধ্যক্ষ পদে যোগ্য প্রার্থী লিটনকে নিয়োগ না দেওয়ায় বিষয়টি পরিদর্শক টিমকে জানাতে তারা ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে আরডিএতে গিয়েছিলেন। তবে কারও সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেননি। অধ্যক্ষকে কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ মিথ্যাচার করছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow