Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৫
হত্যা মামলার চার আসামির পরোয়ানা পাঁচ বছর গায়েব
প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অভিযুক্তরা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার খাদুলী গ্রামের কৃষক লাবু হত্যা মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা সাড়ে পাঁচ ধরে গায়েব রয়েছে। জিআরও কোর্টের দায়িত্বশীলরা বলছেন পুলিশকে হাতে হাতে পরোয়ানার কাগজ দেওয়া হয়েছে। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানার কোনো কাগজ নেই তাদের কাছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামিদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে কোর্ট জিআরও পরোয়ানার কাগজ গায়েব করে রেখেছে। এ সুযোগে দীর্ঘ সময় চার আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উল্লাপাড়ার ওসির সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাত করে সখ্য গড়ে তুলেছেন তারা। আদালতের পরোয়ানা গায়েব হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ঊঠছে নানা প্রশ্ন। উল্লাপাড়া থানার ওসি কৌশিক আহমেদ বলেন, ‘এ সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা আমার থানায় নেই। পরোয়ানার কাগজ কোথায় আছে তাও জানা নেই আমাদের। ’ উল্লাপাড়ার তৎকালীন কোর্ট জিআরও ফেরদৌস জানান, সব পরোয়ানা তামিল করা হয়েছে। উল্লাপাড়া পুলিশ চারটি পরোয়ানার কাগজ হাতে হাতে নিয়ে গেছে। ব্যস্ততার কারণে রেজিস্ট্রারে তুলতে ভুলে যাওয়ায় ডকুমেন্ট নেই। মূল নথি থেকে পুনরায় পরোয়ানা ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। কোর্ট ইন্সপেক্টর শহীদুল্লাহও জানালেন, মামলার নথিপত্র দেখে পুনরায় যেন গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করার কথা। জানা যায়, ২০১০ সালের ২০ জুন খাদুলী গ্রামের জাবেদ সরকারের ছেলে কৃষক লাবুকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন গ্রামের খালপাড়ে তার গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় লাবুর ভাই আব্দুল জব্বার ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু নিহতের স্ত্রী আদালতে ১৬৪ ধারায় মূল হত্যাকারী হিসেবে মামলার বাদী জব্বার, একই গ্রামের সৈয়দ আলী, জালাল, সাহাব, হবি, হায়দার ও শুকুরের নাম বলেন। এ জবানবন্দীর ভিত্তিতে মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ২০১১ সালের ১ মার্চ আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেয়। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শুকুর আলী, হবিবর রহমান, সৈয়দ আলী ও হায়দারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরেও কোনো আসামি গ্রেফতার করা তো দূরের কথা পরোয়ানার কপিই থানায় পৌঁছেনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow