Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৪
তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা হারিয়েছে কাপ্তাই হ্রদ
৫৭ বছরেও হয়নি ড্রেজিং
রাঙামাটি প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৫৭ বছরে ড্রেজিং হয়নি রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। ফলে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে হারিয়ে গেছে নাব্যতা। দিন দিন এর গভীরতা হ্রাস পাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। এছাড়া হ্রদের পাড় দখল করে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। তৈরি করা হয়েছে বহুতল ভবনও। হ্রদ ঘেঁষে পাহাড়ের পাদদেশে এবং ভাসমান টিলায় গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বসতি। এ কারণে নৌ-পরিবহন, বিদ্যুৎ ও মৎস্য উৎপাদনসহ হ্রদের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে এবং রাঙামাটির বিভিন্ন নদীপথে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক ও হ্রদের নাব্যতা ধরে রাখতে সাতটি পয়েন্টে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কথা ছিল। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয় কাপ্তাই হ্রদ। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলরাশি।

আয়তন ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। হ্রদটি সৃষ্টির পর একবারও ড্রেজিং (খনন) বা সংস্কার করা হয়নি। হ্রদ এলাকায় গড়ে উঠা স’মিল, মিলিং মিল, ফিলিং স্টেশন, জেটিঘাট, বাস ও ট্রাক টার্মিনাল এবং হোটেল, বসতবাড়ি, রেস্তোরাঁসহ আবাসিক এলাকার বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা পড়ছে এর পানিতে। ক্রমেই এ সংকট বাড়তে থাকায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে হ্রদের অস্তিত্ব। রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন জানান, দীর্ঘদন ধরে হ্রদ ঘেঁষে উভয় তীরে বেপরোয়াভাবে গড়ে উঠছে বিভিন্ন বসতবাড়ি। এ কারণে হ্রদটি হুমকির মুখে রয়েছে। হ্রদজুড়ে অবৈধ স্থাপনার বর্জ্য নিক্ষেপ, মলমূত্র ত্যাগসহ নানা কারণে এর পানি ও পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটছে বলে দাবি পরিবেশবাদীদের। শানিংহিলের নির্বাহী পরিচালক (পরিবেশবাদী) আলী জানান, পর্যটন শহর রাঙামাটির বিরাট অংশ কাপ্তাই হ্রদ। প্রায় প্রতিদিন নৌ-ভ্রমণে এখানে আসছেন হাজার হাজার পর্যটক। নৌ-ভ্রমণে আসা পর্যটকদের চিপসের প্যাকেট, পলিথিনসহ নানা আবর্জনাও পড়ছে হ্রদের পানিতে। রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার জানান, বছরের পর বছর পাহাড়ি ঢলে নামা পলি জমে হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে হ্রাস পাচ্ছে গভীরতা। লেকে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। উভয় তীরে অব্যাহত ভাঙনসহ প্রতিদিন শত শত মেট্রিক টন বর্জ্য নিক্ষেপ করা হচ্ছে হ্রদে। দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। এ সব কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে হ্রদটি। তাই এখনই ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow