Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৫
সীমান্ত এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাবে বাড়ছে অপরাধ
সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার জেলার সীমান্তর্তী এলাকায় রয়েছে কর্মসংস্থানের অভাব। কাজের সুযোগ না পেয়ে চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন এখানকার মানুষ।

বিজিবির অভিযানে সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায়ই জব্দ হচ্ছে মাদকসহ অবৈধ মালামাল। অন্য এলাকার তুলনায় সীমান্তে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ না থাকায় বেকারত্বের ফলে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে বলে জানান এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা। মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল এই পাঁচ উপজেলার সঙ্গে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে ২৩৮ কিলোমিটার। এর প্রায় পুরোটাই দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চল। এসব এলাকায় রাস্তাঘাট না থাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টর সূত্রে জানা যায়, তাদের অধীনে সীমান্ত রয়েছে ৩৫১ কিলোমিটার। এরমধ্যে মৌলভীবাজারেরই ২৩৮ কিলোমিটার। বিজিবির হিসাব মতে ২০১৫ সালে তাদের হাতে গাঁজা, ফেনসিডিলসহ ১৬ কোটি ৭৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ হয়। এসব পণ্যের মধ্যে মাছ, পান, রাবারও আছে। আর ২০১৬ সালে জব্দ মালামালের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৫ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে মামলা হয়েছে এক হাজার ৩২০টি। আর ২০১৬ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৫৮। কিন্তু তাতেও কমছে না অপরাধ প্রবণতা। যদিও বিজিবির দাবি, আগের চেয়ে সীমান্তে অপরাধ কমেছে। এলাকাবাসী জানান, শহর ও অন্য গ্রামের তুলনায় সীমান্ত এলাকায় বেকারত্ব বেশি। জীবন-জীবিকার তাগিদে এখানকার অনেকে চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের আব্দুল মছব্বির জানান, সরকারি বহু সুযোগ-সুবিধা তারা পান না। অভাবের তাড়নায় এলাকার অনেকে অবৈধ পথে পা বাড়ান। একই গ্রামের সোহেল আহদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীর তুলনায় সীমান্ত এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কম। চিকিৎসা ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট ভাল না। সব জায়গায় জরুরি চিকিৎসার জন্য সময়মতো গাড়িও পাওয়া যায় না। ’ জুড়ির লাঠিটিলা গ্রামের কয়ছর মিয়া বলেন, ‘বেঁচে থাকতে হলে কিছু তো করা দরকার। কাজ কাম নেই বলেই অনেকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। ’ কমলগঞ্জের শমসের নগরের শিক্ষক ও সংবাদকর্মী মুজিবুর রহমান রনজু বলেন, ‘অপরাধ প্রবণতা কমাতে হলে সীমান্তের মানুষের শিক্ষার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অশিক্ষা অন্ধকার ছাড়া কিছু দিতে পারে না। ’ বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল জাকির হোসেন জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধে সোচ্চার রয়েছে সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বার বার একই অপকর্মে জড়াচ্ছে এখানকার অপরাধীরা। জেলা প্রসাশক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সীমান্তের বেকারত্ব দূরীকরণে যুব উন্নয়ন, সমাজসেবা, সমবায় অধিদপ্তর তালিকা করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow