Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১২
বাঘাইড়ের ওজন ৬৩ কেজি মিষ্টির ওজন ১০ কেজি
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বাঘাইড়ের ওজন ৬৩ কেজি মিষ্টির ওজন ১০ কেজি
পোড়াদহ মেলায় ওঠা ৬৩ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছ —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দেড়শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় গতকাল মাছ আর মিষ্টিতে চমক দেখানো হয়েছে। মেলায় ওঠা একটি বাঘাইড় মাছের ওজন ছিল ৬৩ কেজি, দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা।

আর কাতলের ওজন ছিল ২৬ কেজি। এমনকি এক মিষ্টির ওজনও ছিল ১০ কেজি। ৬৩ কেজি ওজনের বাঘাইড় মাছটি নিয়ে এসেছিলেন মহিষাবান গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী দুখু মিয়া। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে আনা মাছটি পদ্মার বলে তিনি জানান। মাছটির দাম ১ লাখ ৬ হাজার টাকা হাঁকা হলেও দুপুরের পর দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। মেলায় বড় মাছ তোলা আর কেনা নিয়ে ছিল একরকম প্রতিযোগিতা। এতে হার-জিৎ না থাকলেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মেলার শেষ দিনে আরও ছিল বোয়াল, কাতল, রুই, পাঙ্গাশ মাছ। একেকটির ওজন ছিল ১ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত। মাছের পাশাপাশি মাছ আকৃতির ১০ কেজি ওজনের মিষ্টি আর বাঁশ ও কাঠের ফার্নিচার কেনাকাটায় মুখর ছিলেন প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ। গাবতলীর মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতী নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে প্রতি বছর বসে এ মেলা। প্রায় দেড়শ বছর আগে বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়কসংলগ্ন পোড়াদহ খালের পাড়ে এক বিশাল বটতলায় আয়োজন করা হতো সন্ন্যাসী-পূজার। প্রতি বছর মাঘের শেষ বুধবার আয়োজিত এ মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা। পোড়াদহে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। সন্ন্যাসীর মেলা দিয়ে শুরু হয়ে পোড়াদহ মেলা কালের বিবর্তনে এখন বলা হয় মাছের মেলা। স্থানীয়রা বলেন, জামাই মেয়ে মেলা। মেলা ঘিরে আশপাশে প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়েজামাইকে নিমন্ত্রণ করে আপ্যায়ন করেন। সঙ্গে নিমন্ত্রিত হন স্বজনরাও। মেলার প্রথম দিনে ছেলেদের ভিড়ে মেয়েরা প্রবেশ করতে পারেন না বলে দ্বিতীয় দিন বউমেলার আয়োজন করা হয়।

up-arrow