Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৫
পরিবারের সদস্যরা গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন
বিধবার বাড়ি দখলের পাঁয়তারা!
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রসিয়া বেওয়া নামে এক বিধবার বসতবাড়ি দখল করতে পরিবারের সদস্যদের নামে ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক বছর আগে টাঙ্গাইল আদালতে করা মামলাটি প্রথমে মির্জাপুর থানা ও পরে ডিবি পুলিশ তদন্ত করে।

দুই সংস্থার তদন্তে মামলাটি মিথ্যা হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাদীর নারাজিতে সর্বশেষ সিআইডি তদন্ত করলেও গ্রেপ্তারের ভয়ে পরিবারটির দিনমজুর সদস্যরা দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একই মামলায় বিভিন্ন সময় তদন্তের হয়রানি ও গ্রেপ্তারের ভয়ে এক বছর ধরে দিনমজুর পরিবারটি পালিয়ে বেড়ানোয় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রসিয়া বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষের বাসা-বাড়িতে সারাদিন কাজ করে রাতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ওই বাড়িতে শান্তিতে একটু ঘুমাই। আব্দুল কাদের ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে সে সুযোগটাও কেড়ে নিতে চাচ্ছে। টাঙ্গাইল সিআইডি কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা এএসপি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, যেহেতু মামলাটি আগেও দুটি সংস্থা তদন্ত করেছে। সে কারণে তিনি নিজে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের পর প্রতিবেদন দাখিল করবেন। সরজমিনে জানা যায়, মির্জাপুর পৌরসভার বাওয়ার কুমারজানী মৌজার ৪৩৮ নম্বর দাগে খাস জমিতে দীর্ঘদিন ভূমিহীন রসিয়া বেওয়া ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনী নিয়ে বসবাস করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মির্জাপুর থানা রোডের বাসিন্দা আব্দুল কাদের গং রসিয়ার বাড়িটি দখলে নিতে নানাভাবে চেষ্টা চালায়। প্রথমে ভয় দেখিয়ে দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রসিয়ার ছেলে, মেয়েজামাই ও বোনের ছেলের নামে আদালতে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে।

আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি নথিভুক্ত করেন মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এসআই আলমগীর কবির পান মামলার তদন্তভার। এরপরই গ্রেপ্তারের ভয়ে পরিবারের সদস্যরা বসতবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান। তদন্তকারী কর্মকর্তা ৪ এপ্রিল মামলাটি মিথ্যা হিসেবে আদালতে প্রতিবেদন দেন। কিন্ত বাদী আব্দুল কাদের প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দিয়ে মামলা ডিবি পুলিশকে দিয়ে তদন্তের আবেদন জানান। আদালত ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান তদন্ত শুরু করলে রসিয়ার পরিবারের লোকজন কাজকর্ম ফেলে আবার পালিয়ে যান। ওই বছরের ২ অক্টোবর ডিবিও মামলাটি মিথ্যা হিসেবে প্রতিবেদন দেয়। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী আদালতে আবারো নারাজি দিয়ে সিআইডির তদন্তের জন্য আবেদন করেন। টাঙ্গাইল সিআইডি অফিসের উপ-পরিদর্শক মোখছেদুল আলম তদন্ত শুরু করলে গ্রেপ্তার এড়াতে রসিয়ার পরিবার এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow