Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১০
পেনশনের টাকা না পেয়ে শতাধিক শ্রমিকের মানবেতর জীবন
পঞ্চগড় চিনিকল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

চাকরি থেকে অবসরে গিয়ে বছরের পর বছর পেনশনের টাকা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পঞ্চগড় চিনিকলের শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থা তাদের।

উপায়ন্তর না দেখে পেনশনের টাকার দাবিতে গতকাল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখেন অবসরপ্রাপ্ত এ শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের মধ্যস্থতায় অবরোধকারীরা পরিচালকের কক্ষ ত্যাগ করেন।   শ্রমিকদের দাবি, অবসরে যাওয়ার ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনের টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ টাকা দিচ্ছে না। এক বুক হতাশা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারিরা বলেন— চিনিকলের পেছনে জীবন যৌবন উজাড় করে দিয়েছি। বিনিময়ে শেষ জীবনে এসে স্বজনদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। পেনশনের টাকার জন্য ঘুরতে ঘুরতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। কবে এ টাকা হাতে পাব তা এখনো অনিশ্চিত। মৌসুমী চালক মশারফ হোসেন জানান, ২০১৪ সালে অবসরে গেছেন তিনি। অবসরের পর জমি বন্ধক রেখে ১১ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। পেনশনের পাঁচ লাখ টাকা পেয়ে জমি ফেরত নেবেন বলে আশায় আছেন। তিনি বলেন, ‘পরিবারের কাছে হেয় হয়ে বেঁচে আছি। কেউ ভালবাসে না’। ল্যাবক্যামিস্ট উসমান গণির ভাষ্য, অবসরে যাওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পেনশন পাইনি। মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা বলে রেখেছি। টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছি না। আশায় আছি পেনশনের। স্নায়ু রোগে ভুগছেন অবসরপ্রাপ্ত টারবাইন অপারেটর একরামুল হোসেন। ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে এসেছেন টাকা আদায়ের কর্মসূচিতে। একরামুল বলেন, ‘মরে যাবো; পেনশনের টাকা বোধ হয় চোখে দেখা হবে না। ’ চিনিকল সূত্রে  জানা যায়, ২০১৪  সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪৩ শ্রমিক-কর্মচারী অবসরে গেছেন। তাদের সরকার এখনো পেনশনের টাকা পরিশোধ করেনি। তারা পেনশন বাবদ প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা পাবেন। উচ্চ পর্যায়ে হিসাব পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে অবসর নিলেও কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেনশন পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকরা। তাদের দাবি, শ্রমিক-কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক জানান, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারির পেনশনের জন্য সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় চাহিদা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রাচুইটির কিছু টাকা পরিশোধও করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের পেনশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদের বিষয়টা সরাসরি সদর দপ্তর থেকে পরিচালনা করা হয়। তাই হয়তো কর্মকর্তারা টাকা পেয়েছেন।

up-arrow