Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১২
তারানগরে ১৬৫ গভীর নলকূপের ১৬০টিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে গ্রামবাসী
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামের ১৬৫টি গভীর নলকূপের মধ্যে ১৬০টিতেই অধিক মাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। ওই এলাকায় যেকটি কুয়ো রয়েছে তাতেও পাওয়া গেছে আর্সেনিকের অস্তিত্ব।

এতে আর্সেনিক আক্রান্তের আশঙ্কাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন গ্রামবাসী। জানা যায়, মুজিবনগর উপজেলার তারানগর গ্রামে প্রায় দুই হাজার ৮৫৮ জন মানুষের বাস। এ গ্রামে গত কয়েক বছরে আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭০-৮০ জন। আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত সংখ্যা এখন প্রায় ৭৪৮। সরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর দেওয়া বিশুদ্ধ পানির যে উৎসগুলো ছিলো তা যথাযথ তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে এ গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে ডোবা থেকে পানি সংগ্রহ করে জীবনধারণ করছেন।

তারানগরের গৃহবধূ লিপিয়ারা বলেন, ‘এখানকার টিউবয়েলের পানি পশু-পাখি, গরু-বাছুর যাকে খাওয়ানো হয় তাকেই আর্সেনিকে ধরে। আমার গাভীর দুধ পরীক্ষা করে তাতেও আর্সেনিক পাওয়া গেছে। তাই বাধ্য হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ডোবা-পুকুরের পানি খাচ্ছি। ’ স্থানীয় যুবক লিয়াকত হোসেন জানান, ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত তারানগরে আর্সেনিকে ৪৫-৫৫ জন মারা গেছেন। দুই বছর আগে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এখানে একটি বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক স্থাপন করে কিন্তু তা ১৫ দিন সচল রাখার পর বন্ধ করে দিয়ে আর খোঁজখবর রাখেনি। কয়েকবার মেহেরপুর সেভ দ্য চিলড্রেনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কার্যালয় থেকে আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব রহিমা বলেন, ‘আর্সেনিক রোগের সঙ্গে আমাদের বসবাস। এ রোগ আমার স্বামী-সন্তান কেড়ে নিয়েছে, আমিও ভুগছি। আমার মতো প্রতিটি পরিবার এ রোগে ভুগছে। ’

স্থানীয় বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেনের ভাষ্য, বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারানগরবাসীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতরে যোগাযোগ করলে তারা এ গ্রামে জরিপ পরিচালনা করেছে। জরিপে উঠে এসেছে ভয়াভব চিত্র।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রাককালনিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ গ্রামের শতকরা ৯৫ ভাগ নলকূপে আর্সেনিক রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তারানগরের জন্য ওয়াটার সাপ্লাই অথবা মিনি আর্সেনিক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের প্রস্তাব করেছি। মুজিবনগর স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল বলেন, ‘মুজিবনগর হাসপাতালে আর্সেনিকের কোনো ওষুধ বরাদ্দ নেই। তাই আক্রান্তকে ব্যবস্থ্যাপত্র ও         পরামর্শ দেওয়ার বাইরে কোনো সেবা দিতে পারছি না। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow