Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:১৫
অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নেই শহীদ মিনার
তিন জেলা ও চার উপজেলার চিত্র
প্রতিদিন ডেস্ক

খুলনা, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা জেলা এবং বরিশালের গৌরনদী, টাঙ্গাইলের নাগরপুর, বরগুনার আমতলী ও যশোরের শার্শা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও গড়ে উঠেনি শহীদ মিনার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মান জানাতে পারে না।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাকরা। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—

খুলনা : খুলনার বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। গ্রাম পর্যায়ের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২১ ফেব্রুয়ারি মানে শুধুই ছুটির দিন। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, খুলনায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। যেসব স্কুলে আছে সেগুলোও থাকে অবহেলায়-অনাদরে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, খুলনা অঞ্চলের পরিচালক টিএম জাকির হোসেন বলেন, সব স্কুলে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এছাড়া বরিশালের গৌরনদী উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক। লক্ষ্মীপুর : জেলায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা মিলে রয়েছে ১০৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে আজো গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার।

শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মান জানাতে পারে না। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক প্রতিষ্ঠানে শুধু জাতীয় পতাকা তুলেই দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা। কোথাও কোথাও বাঁশের কঞ্চি অথবা কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামছুল ইসলাম জানান, সরকারের কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনে সচেষ্ট রয়েছে জেলা পরিষদ। কুমিল্লা : জেলার তিন সহস্রাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-তৃতীয়াংশে শহিদ মিনার নেই। শিক্ষার্থীদের ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিতে হয় কলা গাছ বা কাঠের শহিদ মিনার কিংবা দূরে অন্য স্কুল-কলেজে। ফলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও গুরুত্বও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নির্মাণের কোনো বাজেট দেওয়া হয় না। যেখানে স্কুল পরিচালনা কমিটির সামর্থ্য আছে সেখানে শহিদ মিনার নির্মিত হয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, ‘শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য সরকার নির্দেশনা পাঠিয়েছে, আমরা তা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও শহিদ মিনার নির্মাণ করেনি। ’ টাঙ্গাইল : নাগরপুর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় সঠিকভাবে পালিত হয় না আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেখানে শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্য মতে নাগরপুরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, কলেজসহ ২২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এরমধ্যে কতগুলো প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে তার সঠিক তথ্য নেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার হোক সেটা আমরাও চাই কিন্তু সরকার থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় পদক্ষেপ নিতে পারছি না। বেনাপোল : যশোরের শার্শা উপজেলায় ৯০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। এ সব প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসটি পালিত হয় দায়সারাভাবে। শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১২৬টি প্রাথামিক বিদ্যালয়ের ১১৩টিতে শহীদ মিনার নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow