Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪০
দুই মিটার কালভার্টে ব্যয় ২৮ লাখ!
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

যে কালভার্ট নির্মাণে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কথা না সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৮ লাখ। সরকারি টাকা নয়-ছয়ের এমন অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে।

মাত্র দুই মিটার দৈর্ঘ্যের যে বক্স কালভার্টটি নির্মাণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাঁচ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করেছিল সেই একই কাজ পাউবো করছে ২৮ লাখে। বিষয়টি তদন্তের দাবি করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। জানা যায়, এলজিইডির অধীন সদর উপজেলার উজানগ্রাম-হরিণারায়ণপুর সড়কের বেড় বাড়াদি এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের উপর একটি ছোট কালভার্ট রয়েছে। এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এলজিইডি দুই মিটার দীর্ঘ ওই কালভার্ট পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক মাস টেন্ডার আহ্বান করে ঠািকাদার নিয়োগ দেন। ব্যয় ধরা হয় পাঁচ লাখ ১১ হাজার টাকা। ঠিকাদার কাজ শুরুর নির্দেশপত্র পেলেও স্থানীয় পাউবোর হঠকারিতায় কাজটি করতে পারেননি। কাজ শুরুর আগেই পাউবো আলাদা টেন্ডার আহ্বান করে প্রায় পাঁচ গুণ টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন ঠািকাদার নিয়োগ করে। ওই ঠািকাদার কাজটির প্রায় ৯৫ ভাগ শেষ করেছেন। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এলজিইডির বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হলে কালভার্টটি টেকসই হতো না। এ কারণে ঢাকা থেকে পাউবোর একটি টিম সরেজমিনে দেখে যে বরাদ্দ দিয়ে কাজটি করতে পরামর্শ দিয়েছে সে অনুযায়ী করা হচ্ছে। এলজিইডির একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভ্যান-সাইকেল চলা রাস্তায় মাত্র দুই মিটার দীর্ঘ কালভার্টের জন্য কেন পাইলিং করা হলো সেটা তাদের বোধগম্য নয়। সদর উপজেলার প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কালভার্ট নির্মাণের জন্য টেন্ডার দিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি জিকে আলাদা টেন্ডার দিয়ে কাজ করাচ্ছে। তখন বিষয়টি চিঠি দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ’ সচেতন নাগরিক কমিটি কুষ্টিয়ার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম টুকু বলেন, ‘প্রতিটি কাজের স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

যেখানে এলজিইডি পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় ধরছে সেই একই কাজ পাউবো ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন করছে। সরকারি অর্থ নয়-ছয় হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow