Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১১
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাওর পারের মানুষ
সৈয়দ বয়তুল আলী, মৌলভীবাজার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অপুষ্টি, শিক্ষা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন মৌলভীবাজারের হাওরপারের মানুষ। বছরের অধিকাংশ সময়েই নানা রোগে আক্রান্ত থাকেন তারা।

পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি না হওয়া, অসচেতনতার কারণে দরিদ্র এ জনগোষ্ঠি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের।

জেলার বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া উপজেলায় ২৭ দশমিক ২৮৩ হেক্টর জমি নিয়ে দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদরের ৬ দশমিক ৪০০ হেক্টর জমি নিয়ে হাওর কাউয়াদীঘি, সদর ও শ্রীঙ্গলের ১১ দশমিক ৬০০ হেক্টর জমি নিয়ে হাইল হাওরসহ জেলায় রয়েছে ছোটবড় ছয়টি হাওর। যার মোট আয়তন ৪৮ হাজার ২৮ হেক্টর। হাওরপারের অধিকাংশ গ্রাম দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ।

সরজমিনে হাওর হাকালুকিপারের সাদিপুরে গিয়ে দেখা যায়, অনেকের রান্নাঘরের পাশে খোলা পায়খানা। পুকুরগুলোর একদিকে ময়লা আবর্জনা ফেলছেন অন্যদিকে এই নোংরা পানিতেই গোসল করছেন অনেকে। খাবারের জিনিস ধোয়ার কাজও চলছে ওই পানি দিয়ে। ৫০ থেকে ৬০ পরিবার ব্যবহার করছেন একটি টিউবওয়েল।

পানি সংগ্রহ করছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। এর সঙ্গে আছে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছেন হাম-রুবেলাসহ নানা রোগে। অন্য হাওর এলাকার গ্রামগুলোরও একই চিত্র। হাকালুকিপারের সাদিপুর গ্রামের শিরিনা বেগম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ; টাকার অভাবে টিউবওয়েল বসাতে পারি না। অন্যের বাড়ি থেকে কষ্ট করে পানি আনতে হয়। এলাকায় বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব। ’ সাদিপুরের ইউপি সদস্য আছলম মিয়া বলেন, ‘এলাকা গরিব। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানকে এসব সমস্যার কথা বলেছি। তিনি সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ’ হাওর কাউয়াদিঘীর পারের আমিরপুর গ্রামের বেলাল আহমদ জানান, এলাকার অন্যতম সমস্যা বিশুদ্ধ পানির সংকট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থা। এ সব সমস্যা সমাধানে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলেও পরে সব ভুলে যান। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন সত্যকাম চক্রবর্তী বলেন, ‘হাওর এলাকা দুর্গম বলে পুষ্টিহীনতা এখানকার প্রধান সমস্যা। স্বাস্থ্য বিষয়ে তাদের ধারণা কম। যে কারণে তারা ঝুঁকিতে থাকেন। আমরা যে কর্মকৌশল গ্রহণ করছি তাতে অচিরেই সমস্যা সমাধান হবে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow