Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৫৮
এক ইউএনওর প্রমোদ নিয়ে পাবনায় সমালোচনার ঝড়
পাবনা প্রতিনিধি

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন বাদ দিয়ে জামায়াত নেতাকে নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে দিন কাটালেন আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভ্রমণের ছবি দেখে সমালোচনার ঝড় উঠেছে পাবনায়।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীসমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধারা। জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলা প্রশাসন শহীদ দিবস ঢিলেঢালাভাবে পালন করে। ওই দিন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পাকশীতে বনভোজন আর প্রমোদ আড্ডায় মেতে ছিলেন— নেতৃত্বে ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির (ভারপ্রাপ্ত আমির) ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান। আনন্দ ফুর্তির সেসব ছবি পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানা যায়, পিকনিকে যেতে হবে তাই রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া আর কোনো কর্মসূচি পালন করে না উপজেলা প্রশাসন। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত কমিটি উপজেলা প্রশাসনের নামে কর্মসূচিগুলো দায়সারাভাবে শেষ করে। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জহুরুল হক বলেন, ‘ঘটনা সত্য হলে ন্যক্কারজনক আয়োজনকে আমরা ঘৃণা জানাই। ’ আটঘরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর মিয়া বলেন, ‘শোকের দিনে এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে।

পাবনা ড্রামা সার্কেলের সাধারণ সম্পাদক রাসেল রহমান বলেন, ‘শোকের দিনে এ ধরনের আয়োজন ভাষাশহীদদের অবমাননা করার শামিল। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ’ জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘যেখানে সারা বিশ্ব দিবসটিকে স্মরণ করছে, সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রমোদ ভ্রমণ করেন কীভাবে!’

এ বিষয়ে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, ‘শুধু এবারই নয়, এর আগের একুশে ফেব্রুয়ারিতেও এভাবে বনভোজন হয়েছে। এখানে জামায়াত নেতা বলে কোনো কথা নয়, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। আর শুধু আমরাই নয়, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের অনেকেই ছিলেন। বনভোজন অন্য কোনো দিন করা যেত, তবে অনেকে থাকেন না বিধায় সবার উৎসাহে ওইদিন করা হয়েছে। বিষয়টি অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। ’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো বলেন, ‘জাতীয় দিবসের ছুটি কাটানোর জন্য নয়, দিবস পালনের জন্যই ছুটি দেওয়া হয়ে থাকে। আর যেহেতু শহীদ দিবস, এই দিনে আনন্দ ভ্রমণের কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow