Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ০০:২০
বিদ্যুৎ সংযোগের নামে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে সলঙ্গায় চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। অভিযোগ আছে, পল্লী বিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা তুলে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতারা।

জানা যায়, সলঙ্গা উপজেলার পাঁচটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন সলঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন বাদশা, তার সহযোগী হাসান, সুমন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমান। তারা সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তার যোগসাজশে সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকপ্রতি ১২-১৫ হাজার টাকা আদায় করছেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে সংযোগ না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। প্রতিবাদ করলে মারপিটের শিকার হতে হয় ভুক্তভোগীদের। এভাবে সহস্রাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। আকমল হোসেন বাদশা ও জিল্লুর রহমান টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও অফিস খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা উত্তোলন করছেন বলে স্বীকার করেন। সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (উল্লাপাড়া)-১ এর জিএম হাসান আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেননি। এরপরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি দুদককে জানানো হবে। নাইমুরী গ্রামের শরিফুল বলেন, ‘বাদশা বিদ্যুতের জন্য বাবার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা না দিয়ে আমরা বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বাবাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছেন। বাবা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নাইমুড়ী গ্রামের মাহমুদ আলী বলেন— কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশার সহযোগী হাসান জানান, আমরা বিদ্যুৎ কিনে আনব। আপনারা যদি সংযোগ নেন। তবে প্রতি মিটারের জন্য ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে দুই মিটারের জন্য অগ্রিম ১২ হাজার টাকা দিয়েছি। সংযোগ দেওয়ার পর বাকি টাকা দেব। জগজীবনপুরের আকলিমা ও হালিমা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা জিল্লুর রহমান বিদ্যুতের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এখন বলছেন আরো সাত হাজার দিতে হবে। ’

সলঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফি কামাল জানান, দুই বছর ধরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত টাকা আদায় করছেন। বিদ্যুৎ দিতে না পারায় অনেকে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখান। সলঙ্গা থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আওয়ামী লীগ নামধারী দালাল চক্র গ্রাহকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। ’ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান লাভু জানান, দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow