Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৭
নেই পর্যাপ্ত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ঝুঁকিতে বাগেরহাট উপকূলবাসী
বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের কথা মনে পড়লে এখনো শিউরে ওঠে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মানুষ। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানা শক্তিশালী ওই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারান জেলার সহস্রাধিক মানুষ।

বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। ভেঙে পড়ে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সিডরের সময় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় উপকূলীয় এই জেলায় এতো মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। তখন থেকেই উপকূলবাসী বেশি করে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের দাবি জানালেও আজো বাগেরহাটে গড়ে উঠেনি পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন জেলার উপকূলের মানুষ। শরণখোলা উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সিডরের পর সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার হলেও এতে ধারণক্ষমতা কম। একেকটি কেন্দ্রে ৬-৭ শ’ লোকের ধারণক্ষমতা আছে। সেখানে আশ্রয় নিতে হয় দুই থেকে আড়াই হাজার। ঘূর্ণিঝড় সতর্ক সংকেত ঘোষণা হলে শেল্টারগুলোতে তিলঠাঁই থাকে না। অনেকের সেখানে জায়গা হয় না। অনেক আশ্রয়কেন্দ্র আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে শেল্টারে যাওয়ার রাস্তাঘাট খুবই খারাপ। সিডরের পর সাউথখালী ইউনিয়নে বেশকিছু স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ হয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থার জন্য ট্যাঙ্কি, টিউবওয়েল, টয়লেটের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী। সাইক্লোন সেল্টারগুলোতে পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পোহাতে হয় দুর্ভোগ। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। পানি ও স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করা সাউথখালীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জেজেএস’র মহড়া প্রকল্প কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে কাজ করছি। সাউথখালী ইউনিয়নে মাত্র আটটি আশ্রয় কেন্দ্রে পানি ব্যবস্থা করে দিয়েছি, যা অপ্রতুল। এছাড়া জনসংখ্যার তুলনায় এখানে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কম। ’ শরণখোলার লাকুড়তলা সাইক্লোন শেল্টার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল আলী বলেন, ‘সিডর বিধ্বস্ত শরণখোলায় প্রয়োজনের তুলনায় সাইক্লোন শেল্টার অনেক কম। দ্রুত নতুন শেল্টার নির্মাণ করা দরকার। যেগুলো আছে তার সংস্কার করা জরুরি’। বাগেরহাটের ডিসি তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে জেলায় বর্তমানে ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে আরও ১৯টি নির্মাণ করা হচ্ছে। জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যায়ক্রমে জেলায় আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে জোর দিয়েছে সরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow