Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪২
বন্দোবস্ত দেখিয়ে খালে বাঁধ দুর্ভোগ ১০ গ্রামের মানুষের
আমতলী প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের দেড়শ বছরের পুরাতন খাল প্রভাবশালীরা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষি জমি দেখিয়ে ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন্দোবস্ত জমির মালিকরা খালটি বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দিয়েছে।

এতে ২০০ একর কৃষি জমি ও বনজ সম্পদ ধ্বংস হওয়ার পথে। দুর্ভোগে পড়েছেন খালের পাড়ের ১০ গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা, খোস্তাকাটা, উমাকান্দা, দক্ষিণ তারিকাটা, উত্তর তারিকাটা, কচাবুনিয়া, হাজীকান্দা, শনির ঘোজা, মধ্য তারিকাটা, রক্ষাতলা গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ গোলবুনিয়া খাল। এ খালের তারিকাটা অংশে ৩৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৬২৮১ ও ৬২৮৬ দাগে রফেজ, মফেজ শিকদার এবং ৯১৫ নম্বর খতিয়ানে ৬৬৪৬ নম্বর দাগে মোজাম্মেল হাওলাদার এক একর করে জমি ৯৯ বছরের বন্দোবস্ত নিয়েছে। এসব দাগে সরল জমি না হলেও উপজেলা ভূমি অফিস ২০০৯ ও ২০১০ সালে খালগুলো সরল জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়। ২০১৬ সালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আহসানুল হক রুবেল জমি বন্দোবস্তকারীদের বুঝিয়ে দেন। ইতিমধ্যে তারা খালে বাঁধ দিয়ে ভরাট কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে ১০ গ্রামের ২০০ একর জমি আবাদ বন্ধ হয়ে গেছে।

খালের তীরের গোলগাছসহ বিভিন্ন বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তারিকাটা গ্রামের কৃষক ইউনুছ মিয়া জানান, ‘প্রতি বছর এ সময় ১৫ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করতাম। এ বছর খালে বাঁধের কারণে পানি না পাওয়ায় বোরো ধানের জন্য জমি চাষ করতে পারছি না। ’ মধ্য তারিকাটা গ্রামের মজিবুর রহমান ও ফকু হাওলাদার জানান, ভূমি অফিস পুরাতন খাল সরল জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দিয়ে কৃষকের সর্বনাশ করেছে। কৃষক শাহজাহান কবির ও নিজাম উদ্দিন বলেন, খালে পানি না থাকায় এ বছর ১৫০ একর জমিতে রবি শষ্য হয়নি। তারা খালের বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন ও খননের দাবি জানান। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow