Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২১
বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওরা ‘অন্ধকার’ তাড়ায়
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মনপাল গ্রাম। পাঁচ সহস্রাধিক মানুষের বাস এই গ্রামে।

স্বাধীনতার চার দশকেও গ্রামটিতে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। স্বাক্ষর জানেন না এমন মানুষের এখানে সংখ্যা শতাধিক। এরমধ্যে ৭৫ জনের মতো বয়স্ক। গ্রামের ‘সচেতন সংঘ’ নামের একটি সংগঠন তাদের খুঁজে বের করে স্বাক্ষর শেখানোর চেষ্টা করছে। সংঘের আহবায়ক মাসুদুল হক জানান, যারা নাম লিখতে জানে না এমন বয়স্ক এবং ঝরেপড়া শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তালিকা করা হয়। এ কাজে সংঘের সদস্যসচিব হুমায়ুন কবির, সদস্য গিয়াসউদ্দিন ফারুকী, জসিম উদ্দিনসহ গ্রামের হাই স্কুল-কলেজে পড়ুয়ারা সহযোগিতা করছেন। চাঁদা তুলে বয়স্ক শিক্ষার্থীকে খাতা কলম কিনে দেওয়া হয়। জুনিয়ররা তাদের লেখা দেখিয়ে দিচ্ছে। পরে সিনিয়ররা তদারকি করছেন। গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় কিছু ঝরেপড়া শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিভাবকদের বুঝিয়ে তাদের স্কুলে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে তাদেরও বই খাতা কিনে দেওয়া হচ্ছে। ৭০ বছরের রহিমা খাতুন বলেন, ‘আগে টিপসই দিতে কেরোসিন, কুপির কালি খুঁজতে হতো। এখন মেম সাহেবের মতো কাগজে কলম দিয়ে নাম লিখতে আমার মজা লাগে। ’ লাকসাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘মনপাল গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রয়োজন। ব্যক্তি মালিকানার ৩৩ শতক জমি পেলে বিদ্যালয় স্থাপনে আমরা সহযোগিতা করবো। ’ বয়স্কদের সাক্ষর জ্ঞান দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এটি ভালো উদ্যোগ। আগে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকলেও তা এখন বন্ধ রয়েছে। তাদের মতো অন্যরাও এগিয়ে এলো শতভাগ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের বাংলাদেশ হতে বেশি দিন লাগবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow