Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০১৮ ২৩:৩৪

হাওরের ‘বিষফোঁড়া’ যে সড়ক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

হাওরের ‘বিষফোঁড়া’ যে সড়ক
ধানের বস্তা নিয়ে সড়কে আটকা ট্রাক্টর —বাংলাদেশ প্রতিদিন

নেত্রকোনার হাওরে এ বছর বোরোর বাম্পার ফলন হলেও গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দিচ্ছে না বেহাল সড়ক। নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ধান বহনে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। মাত্র দেড় কিলোমিটার বেহাল সড়কের জন্য যে ধান বস্তাপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, দেড় কিলোমিটার পরই একই বস্তা বিকাচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকা দরে। কৃষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার এবং এলজিডির দুর্নীতির কারণে সড়কে নিম্নমানের কাজের কাজের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বলছে, যে ভাবে কাজ ধরা ছিল তারা সেভাবেই কাজ করেছেন। এলজিইডির প্রকৌশলী বলছেন, যেহেতু সময়সীমার আগেই সড়কটি ভেঙে গেছে তাই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারই আবার নির্মাণ করবেন। জেলা প্রশাসক জানান, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ হাওর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তেতুলিয়া থেকে গাগলাজুর পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়কের জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার হাওর অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ শেষের আগেই গাগলাজুর থেকে জালালপুর মোড় পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের দেড় কিলোমিটার ভেঙে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এই দেড় কিলোমিটারে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে দফায় দফায় যানবাহন বদল করতে হয়। ফলে ধানের ভাল ফলন হলেও দ্বিগুণ পরিবহন খরচে কৃষকদের বস্তাপ্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে।  গাগলাজুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সড়কটির কাজ যেমন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। যে কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে গেছে। এখন ধান পরিবহন করতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে আমাদের।’ জালালপুর গ্রামের ইদ্রিস মিয়া জানান, দেড় কিলোমিটার সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় হেন্ডট্রলি দিয়ে বারবার লোড-আনলোড করতে হচ্ছে। ফলে ন্যায্য মূল্য তো দূরের কথা ৬০০ টাকার ধান মাত্র ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শুধু এইটুকু জায়গার জন্য লোকসান গুনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। স্থানীয় গাগলাজুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুবর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সঠিক পরিকল্পনার অভাব ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অনিয়মের কারেণই প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’


আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর