Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৩২
বিএনপিতে স্বস্তি, আওয়ামী লীগে মিটছে না কোন্দল
মাজেদ রহমান, জয়পুরহাট
বিএনপিতে স্বস্তি, আওয়ামী লীগে মিটছে না কোন্দল
bd-pratidin

দলীয় কোন্দল মিটিয়ে বিএনপিতে স্বস্তি ফিরে আসলেও আওয়ামী লীগে গৃহদাহ নিবছে না। জয়পুরহাট জেলা বিএনপিতে কোন্দল প্রায় এক যুগ আগ থেকে। প্রয়াত জেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী প্রধান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সল আলীম এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা এই ত্রি-ধারায় ছিল জেলা বিএনপি, যুবদল ছাত্রদল এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। অন্তঃকোন্দলের বহিঃপ্রকাশ হয়েছিল জেলা বিএনপি অফিস পুড়ানোর মতো ঘটনা ঘটিয়ে। গত ৬ জানুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মোজাহার আলী প্রধানের মৃত্যুর পর দলটি নতুন সংকটে পড়ে সভাপতি পদ নিয়ে। সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফাকে জেলা বিএনপির  ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানতে নারাজ মোজাহার আলী প্রধান সমর্থিত জেলা বিএনপির বড় অংশটি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় পৃথক কর্মসূচি হয়েছে একাধিক। কুশপত্তলিকা দাহ হয়েছে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট জেলা বিএনপিতে সহসভাপতি মমতাজ উদ্দিন মণ্ডলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনোনয়ন দিলে জেলা বিএনপিতে দীর্ঘদিনের কোন্দলের অবসান হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাফিজুর রহমান পলাশ, বিএনপির একাংশের নেতৃত্বদানকারী কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সাল আলীম, মোজাহার আলী প্রধানের পুত্র জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রানা প্রধান, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা সমর্থিত নেতা-কর্মীসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী মমতাজ মণ্ডলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেনে নিয়ে আনন্দ মিছিল ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মণ্ডল জানান, জয়পুরহাট বিএনপি এখন এক প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছে। যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি একসঙ্গে কাজ করবে। এখন জেলা বিএনপির প্রধান কাজ হবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায় করা। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগে কোন্দল এখন চরমে। জেলায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর পৃথক দুটি গ্রুপ এখন আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান নিয়ে একে অপরের বিষোদাগার করছে। কেন্দ্রীয় প্রতিটি কর্মসূচি এখন দুভাগে বিভক্ত হয়ে পালন করছে। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের শোকের মাসে শোক র‌্যালিটিও হয়েছে আলাদাভাবে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলীর পক্ষে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এক আসনের সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু, সহসভাপতি আব্দুল কাদের, রাজা চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক জাহেদুল আলম বেনু, শেখর মজুমদার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বড় একটি অংশ। আর আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের গ্রুপে রয়েছেন জয়পুরহাটের পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, সদর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামসহ কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের একটি বড় অংশ। বর্তমানে আসন্ন জাতীয় দশম সংসদে মনোনয়ন নিয়ে কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিপক্ষে কেন্দ্রে একাধিক অভিযোগ জমা করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলী বলেন তিনি জয়পুরহাট-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। বর্তমান জয়পুরহাট-২ আসনের যে অবস্থা তাতে তিনি মনোনয়ন পেলে  আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হবেন। অপরদিকে  আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন তিনি তার আসনে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে রয়েছেন, তিনি মনোনয়ন পেলে এই আসন থেকে তিনিই নির্বাচিত হবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow