Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৯
ভুতুড়ে বিলে বিব্রত গ্রাহক
মেহেরপুর
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। গণহারে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল বাকি দেখানো হয়েছে। এই ভূতুড়ে বিলে ক্ষুব্ধ-বিব্রত গ্রাহকরা। এ অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেরপুরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বলছে, বিষয়টি অডিটে ধরা পড়ায় সরকারি বকেয়া আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মেহেরপুর ওজোপাডিকো এক কর্মচারি জানান, বিলের হিসাবে কিছু টাকারও গড়মিল রয়েছে। সেই গড়মিল মিলাতে ২০০৭ সালকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কেননা বেশির ভাগ গ্রাহকের কাছে ৯-১০ বছর আগের বিল পরিশোধের কাগজ থাকার কথা না। মেহেরপুর মুখার্জিপাড়ার এক গ্রাহক জানান, এ বছরের আগস্টের বিলের সঙ্গে ২০০৭ সালের বকেয়া বাবদ ৭০০-৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে। আমি অফিসে এসে আমার বিল পরিশোধের কাগজ দেখালে কর্তপক্ষ তা ঠিক করে দেন। বোষপাড়ার একরামুল আলম বলেন, ২০০৭-এর ভৌতিক বিলের বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলাম। আমি অভিযোগ দিলে আমাকে জানানো হয়েছে এর দায় গ্রাহকের। এখানকার খাতা-কলম দেখা সম্ভব নয়।

মেহেরপুর শহীদ গফুর রোডের হিসাব উদ্দিন বলেন আমি বাড়ি বানিয়েছি ২০১১ সালে। তখন নতুন সংযোগ নিয়েছি। তাহলে আমার ২০০৭ সালের বিল বকেয়া হলো কিভাবে। আমি এ বিষয়ে কয়েকবার ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশনে গিয়েছি; কিন্তু আমাকে এখন না তখন করে ঘুরানো হচ্ছে। শহরের ফুলবাগানপাড়ার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বসে আছি। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হিসেবে দেখানো হয়েছে ১০৬৫ টাকা। অথচ তিনি প্রতিমাসে ঠিকমত বিল দিয়ে আসছেন। একই সমস্যা নিয়ে ওজোপাডিকো অফিসে আসা শতাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ১১ বছর আগে বিল দেওয়া হয়নি বলে চলতি বিলের কপির সঙ্গে বকেয়া তুলে দেওয়া হচ্ছে কয়েক মাস ধরে। পরপর দুই মাসের বিল বাকি থাকলেই লাইন কেটে দেওয়া হয়। সেখানে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসের বিল বকেয়া দেখানো হচ্ছে কিভাবে?

মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ শাখায় বর্তমানে গ্রাহক রয়েছে ১৫ হাজার। ২০০৭ সালে ছিল সাত হাজার। লেজার বহির ঝামেলায় ওই সাত হাজার গ্রাহক প্রতিনিয়ত বকেয়া বিলের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মেহেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশল আব্দুল আজিজ জানান, ২০০৭ সালের দিকে কোনো কম্পিউটারাইজড সিস্টেম ছিল না। তখন হাতে লেখা লেজার বহিতে পরিশোধিত বিলের তথ্য লিখে রাখা হতো। অডিট আপত্তি চলায়, ২০০৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বকেয়াগুলো বিলের কাগজে লেখা হচ্ছে। যারা আপত্তি জানাচ্ছেন, তাদেরটা লেজার বহি দেখে সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে। লেজার বহিতে ওই বিল পরিশোধ না উঠানো থাকলে সেক্ষেত্রে গ্রাহককে বকেয়া হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow