Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৬
স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা, দুর্ভোগ
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
bd-pratidin

নেই পর্যাপ্ত জনবল। নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও। বিশেষজ্ঞ না থাকায় অকেজো হয়ে আছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্যাথলজি টেস্টও সঠিকভাবে হচ্ছে না। এক্স-রে ও ইসিজি মেশিনও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি সংকট থাকায় দুর্গন্ধে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়ে আছে। মুমূর্ষু রোগীদের আনা নেওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত ট্রলি। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে রোগীদের বিছানা, চাদর ও পর্দা। স্বাস্থ্য সেবাই এই বেহাল দশার চিত্র মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এখানে শুধু নেই আর নেই। হাসপাতালে নেই ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, এনালাইজার মেশিন, ইনকিউবেটর, মাইক্রোস্কোপ, আটোক্লেব মেশিন। জেনারেটরটি গত আট মাস ধরে বিকল। এছাড়া হাসপাতালে লাগানো আইপিএসের আলোও পর্যাপ্ত নয়। অপারেশন থিয়েটার ও লেভার ওয়ার্ডে নেই আইপিএস ও জেনারেটর সংযোগ। বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রসূতি মায়েদের অস্ত্রোপ্রচার (সিজার) করা হয় মোমবাতির আলোয়। ব্ল্যাড ব্যাংক না থাকায় অস্ত্রোপ্রচারের সময় রক্ত আনতে হয় বাইরে থেকে। টিউবয়েলের আয়রন পানিতে লাল হয়ে আছে হাসপাতালের বেসিন, কমোড। জানা যায়, ২০১২  সালের ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই এই হাসপাতালে ৫০ শয্যায় কার্যক্রম চালু হয়। পরে ৫০ শয্যার জনবলের পদ সৃষ্টির জন্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছরেও নতুন পদ সৃষ্টি হয়নি। সরজমিনে দেখা যায়, ৩১ শয্যার নয়জন চিকিৎসক পদের মধ্যেও দুটি পদ শূন্য রয়েছে। সাতজনের মধ্যে ডা. মিনাক্ষী দেব নাথ প্রেষণে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আছেন। মাত্র তিন জন মেডিকেল অফিসার বহির্বিভাগ, আন্ত:বিভাগ ও জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। ডা. শুভ্রাংশু শেখর দে বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীর হাতের সীরা না পেলে স্যালাইন পুশ করতে সমস্যা হয়। শিশুরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আর মোমবাতির আলোয় প্রসূতি সেবা দেওয়া অনেক দুরূহ ব্যাপার। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকলে কোনো রোগীকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো বলেন, ‘জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র আমরা কয়েক দফা অধিদপ্ততে পাঠিয়েছি। ৫০ শয্যার জনবল পেলে সংকট কিছুটা কাটবে। আর বহির্বিভাগ, আন্ত:বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা আলাদা ডাক্তার দিলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow