Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৯
ডোনেশনে চাকরি, বেতন নেই ১ বছর
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের কমপক্ষে ৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারী ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে চাকরি করলেও প্রায় এক বছর ধরে বেতন পাননি। তাদের দেওয়া হয়নি কোনো নিয়োগপত্র। অথচ এই ৭২ জনের কাছ থেকে এক থেকে তিন লাখ টাকা ডোনেশন নিয়ে হাসপাতালে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া এক কোটি ৩১ লাখ টাকা দিয়ে কেনা যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। যাদের টাকায় হাসপাতাল চলছে তারাই বেতন পাচ্ছেন না। এই ৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এখন আবার শোনা যাচ্ছে ডোনেশন দিয়ে চাকরি নেওয়াদের ছাঁটাই করা হবে। এ খবর শোনার পর থেকে তাদের হতাশা আরও বেড়েছে। জানা যায়, এ সব ৭২ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেশির ভাগই দরিদ্র অসহায় পরিবারের সদস্য। চাকরির আশায় ধার করে, সুদে ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋল নিয়ে ডায়বেটিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়ে ডোনেশনের মাধ্যমে চাকরি নিয়ে রোগীদের বিনা বেতনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় চাকরি স্থায়ীকরণ না করে ছাঁটাই করা হলে তাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালো থাকার জন্য গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালে চাকরির আশায় পদ অনুযায়ী এক থেকে তিন লাখ টাকা জমা দিয়েছি। আমাদের টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি ক্রয় করে প্রতিষ্ঠান চালানো হচ্ছে। অথচ আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। কেউ নিয়োগপত্রও পাইনি। সরকারের কাছে দাবি, অবিলম্বে আমাদের চাকরি স্থায়ী করে বেতন-ভাতা দেওয়া হোক। অন্যথায় আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’ গোপালগঞ্জ ডায়বেটিক হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবিদ হাসান জানান, ৭২ জনের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। ডোনেশনের টাকায় যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক মালামাল ক্রয় করে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ করতে হবে অথবা টাকা ফেরৎ দিতে হবে।  এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির আহ্বায়ক জেলা প্রশাসক মোকলেসুর রহমান জানান, ডোনেশন নিয়ে চাকরি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা ডোনেশন নিয়েছেন সে দায়-দায়িত্ব তাদের বহন করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow